Published : 16 Feb 2026, 08:14 PM
পুরো রোজার মাস মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।
এর ফলে রমজানের প্রথম ১৮ দিন স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল রইল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সোমবারের কার্যতালিকায় দেখা যায়, রাষ্ট্রপক্ষের নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের না করা পর্যন্ত হাই কোর্টের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে রমজান মাসজুড়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে হাই কোর্টের দেওয়া নির্দেশনাটি আপাতত কার্যকর থাকছে না।
বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির জন্য সরকারকে এখন নিয়মিত লিভ পিটিশন দাখিল করতে হবে।
এর আগে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির বৈষম্য নিরসনে পুরো রমজান মাস মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট।
গত রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মণ্ডলের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ রুলসহ এই নির্দেশ দিয়েছিল।
হাই কোর্টের ওই আদেশের ফলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে রমজানের প্রথম ১৮ দিন মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলো খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে গিয়েছিল এবং আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই ছুটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
রিটের শুনানি ও আদেশের পর ইলিয়াছ আলী মণ্ডল বলেছিলেন, ২০২৬ সালের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মাদ্রাসাগুলো ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অথচ মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে রমজানের প্রথম ১৮ দিন পাঠদান চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
একই রাষ্ট্রব্যবস্থায় দুই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির এই ভিন্নতাকে ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছিল, রোজা রেখে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশগ্রহণ করা কষ্টসাধ্য এবং রমজানে স্কুল খোলা রাখলে বড় শহরগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
গত ১৬ জানুয়ারি রমজান মাসে স্কুল খোলা রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষা সচিবসহ ছয়জনকে বিবাদী করে ওই রিট আবেদনটি করা হয়েছিল।