Published : 15 Jul 2026, 04:36 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলোকে নিজেদের ব্যবসায়িক তথ্যের মালিকানা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সাত্যিয়া নাদেলা। তার মতে, অনেক কোম্পানি বুঝতে না পেরেই এমন তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল নির্মাতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
রোববার প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে নাদেলা লিখেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারীরা আসলে দুইবার মূল্য দিচ্ছেন। প্রযুক্তি সংবাদের সাইট টেকক্রাঞ্চ তাদের সাইটে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
নাদেলা লিখেছেন, “আপনি মূলত বুদ্ধিমত্তার জন্য দুইবার মূল্য দেন। একবার অর্থ দিয়ে, আরেকবার আরও মূল্যবান কিছু দিয়ে, সেটি হলো সেই নিজস্ব জ্ঞান, যা প্রকাশ না করলে ওই বুদ্ধিমত্তাকে কার্যকর করা যায় না। আপনি যত ভালো ফল চান, তত বেশি সেই জ্ঞান মডেলকে দিতে হয়।”
তার মতে, কোম্পানিগুলো শুধু প্রশ্নই করছে না, বরং নিজেদের ব্যবসার সূক্ষ্ম দিকগুলোও মডেলকে শেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন, “মডেল শেখে ব্যবহারকারীর লেখা নির্দেশনা, এজেন্টের ব্যবহৃত টুল এবং বিশেষ করে মডেল ভুল করলে মানুষ যে সংশোধন করে, সেখান থেকে। প্রতিটি সংশোধনই কোম্পানির নিজস্ব জ্ঞানে পরিণত হয়।”
নাদেলার ভাষায়, এই ধরনের জ্ঞান এমন সম্পদ, যা কোনো প্রতিযোগী অর্থ দিয়ে কিনতে পারে না। অথচ অনেক কোম্পানি নিজেরাই তা মডেল নির্মাতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানিগুলো ইন্টারনেটের উন্মুক্ত তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে পারে, তাহলে কোম্পানিগুলোরও সেই মডেল বিশ্লেষণ বা “ডিস্টিল” করার সুযোগ থাকা উচিত। “ডিস্টিলেশন” বলতে এখানে একটি মডেলের আউটপুট বিশ্লেষণ করে নতুন, তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল মডেল তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়।
নাদেলা লিখেছেন, “মডেল নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত তথ্যের ওপর ন্যায্য ব্যবহারের অধিকার থেকে যে বড় উদ্ভাবন এসেছে, তা প্রয়োজনীয়। কিন্তু এরপর অন্যদের জন্য ডিস্টিলেশনের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করাকে আমি রসিকতা মনে করি।”
বিশেষ করে যেসব মডেল নির্মাতা গ্রাহকের ব্যবহার ও পারস্পরিক যোগাযোগের তথ্য থেকে শেখার অধিকার নিজেদের জন্য সংরক্ষণ করে রাখে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সমাধান হিসেবে নাদেলা কোম্পানিগুলোকে নিজেদের তথ্যের মালিকানা ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, নির্দেশনা, প্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য তথ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ক্লাউডভিত্তিক নিজস্ব শেখার পরিবেশ তৈরি করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি এমন একটি “অর্কেস্ট্রেশন লেয়ার” ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের মধ্যে সহজেই পরিবর্তন করা যাবে এবং একটি নির্দিষ্ট মডেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না।
যদিও তিনি কোথাও সরাসরি “ওপেন সোর্স” শব্দটি ব্যবহার করেননি, তবে টেকক্রাঞ্চ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, নাদেলার বক্তব্যে সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। এরইমধ্যে অনেক বড় কোম্পানি নিজেদের অবকাঠামোতেই ওপেন সোর্স মডেল চালানোর দিকে ঝুঁকছে।
কোম্পানিগুলোর জন্য নেটওয়ার্কিং ও নিরাপত্তা সফটওয়্যার তৈরি করা কোম্পানি সলো ডটআইওর প্রধান নির্বাহী ইডিট লেভিন টেকক্রাঞ্চকে বলেন, অনেক গ্রাহক মালিকানাভিত্তিক মডেল ব্যবহারের পর এখন ভাবছেন, “আমি কি একটি ওপেন সোর্স মডেল নিজের অবকাঠামোতে চালাতে পারি? এটি বড় মডেলের প্রায় নব্বই শতাংশ কাজ করবে, খরচও অনেক কম হবে।” তার ভাষায়, “তারা বিষয়টি বুঝতে পারছে, আর তখন তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়েবসাইট তৈরির প্ল্যাটফর্ম ভার্সেল এবং বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের মধ্যে অনুরোধ পাঠানোর সুবিধা দেওয়া ওপেনরাউটার, উভয় কোম্পানিই ওপেন সোর্স মডেলের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে দেখছে। গত মাসে ভার্সেলের গেটওয়ের মোট ট্রাফিকের ২৯ শতাংশই এসেছে ওপেন মডেল থেকে।
সবশেষে নাদেলা লিখেছেন, “আপনি যখন বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেন, তখন নতুন বুদ্ধিমত্তাও তৈরি করেন। আর আপনি যা তৈরি করেন, তার মালিকানা আপনারই থাকা উচিত।”