Published : 14 Jul 2025, 12:59 PM
আইনিভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে করা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে ক্রিকেটার নাসির হোসন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে শুনানি হয়েছে। এদিন আদালত সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১১ অগাস্ট দিন ঠিক করে দিয়েছেন।
সে সময় তারা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
শুনানির জন্য আদালতে হাজির হন নাসির ও তামিমা। মামলার বাদী রাকিবও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিচারক নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ পড়ে শোনান। এ সময় বিচারক তাদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী, না নির্দোষ?
নাসির ও তামিমা তখন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
পরে বিচারক বলেন, “আপনারা কি সাফাই সাক্ষ্য দিবেন?”
তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, আগামী ধার্য তারিখে তারা লিখিত ব্যাখ্যা, নিজেরা সাফাই সাক্ষ্য দেবেন। এছাড়া বাইরের সাফাই সাক্ষী দেবেন। পরে আদালত সাফাই সাক্ষীর জন্য দিন ঠিক করে দেন।
নাসির-তামিমার আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলায় বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসির বিয়ে করেন।
ক্রিকেটার নাসির-তামিমার আত্মপক্ষ শুনানি পিছিয়ে ১৪ জুলাই
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন।
সে বছর ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান।
২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি একই আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ওই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।
নাসির-তামিমার মামলা: আসামি ও বাদীপক্ষের পাল্টাপাল্টি আবেদন, আদালত
ক্রিকেটার নাসির-তামিমার মামলায় সাক্ষ্য শেষ, আত্মপক্ষ সমর্থন ২৮ এপ্রিল
অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটো আবেদনই আদালতে নাকচ হয়ে যায়। ফলে নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আইনি বাধা কাটে।
সে বছর ২০ মার্চ বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।
গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।