Published : 17 Feb 2026, 10:42 AM
নির্বাচনে বিজয়ী নবনির্বাচিত এমপিরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে।
প্রথমে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। এরপর ক্রমানুসারে অন্য দল ও স্বতন্ত্র সাংসদরা শপথ নেওয়ার কথা।
দেশের আইনসভার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনের শপথ নেন আগের সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে। তবে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে নেই, ডেপুটি স্পিকার হত্যা মামলায় শামসুল হক টুকু কারাগারে। সে কারণে নতুন এমপিরা এবার শপথ নেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্য হিসেবে ২৯৭ জনের শপথ নেয়ার কথা রয়েছে এদিন।
হবু প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তার দল এবং জোট থেকে নির্বাচিত সদস্যরা প্রথম দফায় শপথ নেন।
শপথ অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের ডান পাশে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ আর বাম পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল।
সামনের সারিতে বসেছিলেন বাম থেকে সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এরপরে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাঝখানে তারেক রহমান, তার পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম, এরেপরে মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ডা. জেড এম জাহিদ এবং সবার ডানে আন্দালিব রহমান পার্থ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সঙ্গে তারা বলেন, “সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন-অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং সংসদ-সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।”
এরপর সবাই শপথপত্রে নিজেদের আসনের নাম লিখে সই করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার পর সংসদীয় দলের সভাকক্ষে বৈঠকে বসেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। ওই বৈঠকে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।
শপথের পর সংসদের ভিআইপি ক্যাফেটারিয়ায় নতুন এমপিদের জন্য চা-চক্রেরও আয়োজন ছিল।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা জাতীয় সংসদের দকিষণ প্লাজায় নত্নু মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে।
একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। সে কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হয় ২৯৯ আসনে।
তার মধ্যে ২০৯টি জিতে নিয়েছে বিএনপি। তাতে সংবিধান সংশোধন করার জন্য প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের থাকছে।
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি পাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় নতুন শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হওয়া ধর্মভিত্তিক দলটি পেয়েছে ৬৮ আসন।
এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটে থাকা বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদ একটি করে আসন পেয়েছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস ও একটি আসন পেয়েছে।
এই দুই জোটের বাইরে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেবল একটি আসনে জয়ের মুখ দেখেছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫০টি দলের মধ্যে বিগত সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসনের দেখা পায়নি।
সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল গণনা সারা হলেও আদালতের নির্দেশনা থাকায় তা ঘোষণা করা হয়নি। প্রার্থিতা নিয়ে মামলার নিষ্পত্তি শেষে সেই ফল ঘোষণা করা হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে গণভোটও হয়। তাতে অনুমিতভাবেই ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে।
এই ফলের অর্থ হল, জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নের সম্মতি দিয়েছেন দেশের নাগরিকরা। সেই দায়িত্ব পালনের জন্যই নতুন এমপিদের সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবে এদিন শপথ নেওয়ার কথা ছিল।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে শপথ কক্ষসহ আশপাশের এলকায় তল্লাশি চালায়। ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশি চলে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৩ ফ্রেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হয়।