Published : 13 Feb 2026, 11:20 PM
পাতা ঝরে ন্যাড়া গাছগুলো সেজেছে নবপল্লবে, প্রকৃতিতে চলছে ফাগুন হাওয়ার গান, গুনগুনিয়ে কেউ কেউ গাইছে রবি ঠাকুরের ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’।
ঋতুরাজের আগমনী বার্তায় প্রকৃতি সাজছে বাসন্তী রঙে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসছে বাহারি ফুল, শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে রাস্তায় নামছে ভয়-ডর-ভাবনাহীন তরুণ-তরুণীরা। প্রস্তুতি তাদের বসন্ত বরণের।
পহেলা ফাল্গুন ছাড়াও ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ শনিবার। দুটি ক্ষণ একসঙ্গে উদযাপনে প্রতিবছর নানা আয়োজন চলে। যদিও এবার সেই আমেজে কিছুটা ছেদ পড়ছে।
দুটি উদযাপন এমন সময়ে, যার একদিন হয়ে গেছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনসমাগমেও রয়েছে বিধিনিষেধ। সেইসঙ্গে রাজধানীতে পড়ালেখা বা কর্মসূত্রে থাকা মানুষেরা ফিরে গেছেন গ্রামে।
আগের বছরগুলোতে বসন্ত উৎসবের দুদিন আগে থেকে অমর একুশে বইমেলা, টিএসসিসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বাসন্তী সাজে তরুণ-তরুণীদের ঘুরে বেড়াতে দেখা গেলেও এবার সেই দৃশ্য কম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় বসন্ত উৎসব হলেও এবার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজন করবে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষৎ।
গানের দল ‘সমগীত’ প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের বটতলায় বসন্ত উৎসবের আয়োজন করলেও এবার সরকারি বিধিনিষেধের কারণে সূচিতে পরিবর্তন এনেছে তারা।
সংগঠনটির বিথি ঘোষ বলেন, “১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল পর্যন্ত গণজমায়েতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা এবারের বসন্ত উৎসব পিছিয়ে মঙ্গলবার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওইদিন সকাল ১০টায় ঢাবি কলাভবনের সামনের বটতলায় হবে বসন্ত উৎসব।”

সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি শনিবারই বসন্ত উৎসব করবে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই আয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন ডিআরইউয়ের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন।
জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষৎ এর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিবছরের মতই আমরা বসন্তবরণ করব। এবার কিছুটা সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়োজনটি হবে।
“এর আগে চারুকলার বকুলতলা, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ্ পার্ক স্মৃতিস্তম্ভ মঞ্চ এবং উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের উন্মুক্ত মঞ্চে এই আয়োজন করা হত। এবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অভ্যন্তরের উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজনটি করা হবে।”
কয়েক বছর আগেও পহেলা ফাল্গুন ও ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ দুটি দিনে উদযাপন করা হত। তবে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কারের কারণে ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে উদযাপন হচ্ছে একই দিনে।
যন্ত্রসঙ্গীতে বসন্তবরণ
জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষৎ এর আয়োজনে সকাল সাড়ে ৭টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর চত্বরে সমবেত যন্ত্র ও কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করবে বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নৃত্য ও সঙ্গীত দলের পরিবেশনা থাকবে। এছাড়া একক শিল্পী, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা ছাড়াও ‘বসন্ত কথন’ পর্ব, প্রীতি বন্ধনী বিনিময়, আবির বিনিময় হবে।
‘বসন্ত কথন’ পর্বে সভাপতিত্ব করবেন পরিষৎ এর সভাপতি স্থপতি সফিউদ্দিন আহমদ। বক্তব্য দেবেন সহ-সভাপতি কাজল দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট।
উৎসবে দলীয় সঙ্গীতে অংশ নেবে রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, সুরবিহার, পঞ্চভাস্কর, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, সুরতীর্থ ও কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।
দলীয় নৃত্যে আসছে কথক নৃত্য সম্প্রদায়, ধৃতি নর্তনালয়, ভাবনা, নৃত্যাক্ষ, জাগো আর্ট সেন্টার, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, স্পন্দন, মম কালচারাল সেন্টার, ফিফা চাকমা গারো কালচারাল একাডেমি, আঙ্গিকাম, সাধনা, তুরঙ্গমী, নন্দ শিল্প একাডেমি, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র, বাংলাদেশ একাডেমি অব পারফর্মিং আর্ট ও কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।
আগের খবর