Published : 10 Apr 2026, 08:49 PM
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর- ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে চার দিনের রিমান্ড পাঠিছে আদালত।
ডিবি পুলিশের আবেদনে শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম রিমান্ডের আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার জানান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে শুক্রবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার।
আবেদনে বলা হয়, মাঞ্জিল হায়দার দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ সামরিক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ উর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে কাজ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, আসামি সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তার পেশাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’, আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন দমনের ‘নীল নকশা’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারিক সিদ্দিকের নির্দেশনায় তিনি আন্দোলবিরোধীদের অর্থ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছেন।
“আসামি মাঞ্জিল হায়দারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আর্থিক সহায়তা, নির্দেশনা এবং অর্থ, অস্ত্র, গোলাবারুদ সংগ্রহ, ব্যবহারকারীসহ এই মামলার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত পলাতক আসামিদের অবস্থান জেনে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বলেন, “আমরা রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেছি। আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।”
মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিউ মার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন।
ওই ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব নিউ মার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।