Published : 01 Apr 2023, 06:02 PM
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামসকে গ্রেপ্তার নিয়ে ‘কিছু’ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ‘অতিরঞ্জিত’ উপস্থাপনা দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, ওই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ‘শিশু নির্যাতন’ ও ‘শিশুর অপব্যবহারের’ কারণে’, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য নয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকারের নজরে এসেছে যে, কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠান দাবি করছে- ‘বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া’ নিয়ে লেখার কারণে সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
“এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত। এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ‘শিশু নির্যাতন’ ও ‘শিশুর অপব্যবহারের’ কারণে।”
ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়েই জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে উল্লেখ করে পরররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ যুদ্ধের শুরু থেকেই জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের অনেক সংবাদমাধ্যম নিয়মিত প্রতিবেদন করে আসছে।
“এ ধরনের খবরের জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ওই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশুর নির্যাতন ও শিশুকে অপব্যবহারের জন্য, তিনি একটি নয় বছরের শিশুকে ১০ টাকা দিয়েছিলেন এবং নিজের বক্তব্যকে শিশুর বক্তব্য হিসেবে প্রকাশ করেছেন।”
সাংবাদিক শামস বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে খাটো করার চেষ্টা করেছেন দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
‘মাছ, মাংস ও চালের স্বাধীনতা’র বিষয়ে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ওই প্রতিবেদনের প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামসকে তার সাভারের বাসা থেকে সিআইডি ধরে নিয়ে যায়। এরমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। একটি মামলায় প্রথম আলো সম্পাদককেও আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার শামসকে পাঠানো হয় কারাগারে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা, মামলা, সাংবাদিক গ্রেপ্তার এবং তা নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ চলছে। দেশের ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ মামলা এবং শামসকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে আসছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে সরকার সমর্থক সংগঠনগুলো।
এরইমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাংবাদিক গ্রেপ্তারের কারণ জানিয়ে বক্তব্য দিল।
এদিন ওই প্রতিবেদনে এক দিনমজুরের নামে যে বক্তব্য ছাপা হয়েছে, সেটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তব্য দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এটি আসলেই জাকির হোসেন নামে কারও বক্তব্য, নাকি প্রথম আলোর নিজের ‘বয়ান’, তা নিয়ে সন্দিহান তিনি। প্রথম আলো কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে বলেও ধারণা করছেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সব নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে বলছে, “প্রতারণামূলক কাজের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা সৎ সাংবাদিকতার মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
“জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের পক্ষভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের শিশু নির্যাতনের কাজ সহ্য করবে না। পাশাপাশি মহান স্বাধীনতাকে কলঙ্কিত করার এমন চেষ্টাকেও গ্রহণ করবে না সরকার।”
আরও পড়ুন:
পুরানো খবর:
জামিন নাকচ, সাংবাদিক শামস কারাগারেপুরানো খবর:
বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আবার বিতর্কে