Published : 17 Apr 2026, 05:34 PM
ঢাকার ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান আসামি মঈনসহ সাতজনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অন্য আসামিরা হলেন— ফারুক হোসেন সুমন, মো. লিটন মিয়া, মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, এম বি স্বপন কাজী ও শাওন হোসেন।
গত ১১ এপ্রিল চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
এতে মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয় সাত-আটজনকে।
পরে মঈনের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় ফালান, রুবেল, ফারুক ও লিটনকে। সোমবার তাদের চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার মঈনসহ তিন জনের তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. ছাব্বির আহমেদ।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। পরে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, “সিকেডি হাসপাতালের কাছে মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ হানিফকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে তার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খুলে দিলে মঈন তার স্ত্রীকে বলেন, চাঁদাবাবদ এখনই তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন আসামিরা। হানিফের স্ত্রী চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। এ সময় হানিফ হাসপাতালে থাকা তার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করেন। পরে তার ভাই মনির বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকেন।
“এক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫০-৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।”
পরে শেরেবাংলা নগর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
স্বল্প খরচে কিডনি চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপনের জন্য অধ্যাপক কামরুলের পরিচিতি রয়েছে। গত শুক্রবার তা সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে যুবদল পরিচয়ে চাঁদা দাবির বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। পর যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধি দল রাত দেড়টার দিকে শ্যামলীর ওই হাসপাতালে যান।
তারা অধ্যাপক কামরুল ইসলামের কাছে ঘটনা জানতে চান, তাকে বিষয়টি সুরাহার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।