Published : 08 Feb 2026, 12:07 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার উদ্যোগ তুলে ধরে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে।
“আঠারো মাসে সরকার প্রায় ১৩০টি আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করেছে এবং ৬০০-এর বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ সংস্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।
সরকারপ্রধানের দপ্তর বলছে, অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৪০০টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে।
চীনা ঋণের মেয়াদ পুনঃনির্ধারণ, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতির কথাও বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে, “পতিত শাসনামলে দায়িত্ব পালনকারী শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা হয়েছে এবং বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”
এছাড়া ব্যাংকিং খাতে তদারকি জোরদার, ৪২টি মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে ১২০০-এর বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন পুনর্গঠন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ রাখা হয়েছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক আওতায় আনা হয়েছে এবং বিচারপতি নিয়োগে মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে বলা হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক কারণে নিষিদ্ধ গণমাধ্যমগুলো পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে।
“সাবেক শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়নি।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাত মাস ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা শেষে ‘জুলাই সনদ’ প্রণীত হয়েছে, যা সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে গণভোটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই সংস্কারগুলো নাগরিককেন্দ্রিক নতুন শাসনব্যবস্থার পথে প্রথম পদক্ষেপ উল্লেখ করে এতে বলা হয়, তবে কাজ এখনো সম্পূর্ণ নয়।
“ষোল বছরের ক্ষয়ক্ষতি আঠারো মাসে পূরণ করা সম্ভব নয়।”