Published : 15 Apr 2026, 04:29 PM
দেড় দশক ধরে দেশ চালিয়ে আসা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার যেসব মেগা প্রকল্প বা অন্যান্য প্রকল্প নিয়েছিল সেসবের কোনোটিই ‘বাস্তব সম্মত হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বিএনপি সরকারের আগামী পাঁচবছরের কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে কথার বলার সময়ে এই দোষারোপ করেছেন তিনি।
তিতুমীর বলেন, “অতীতের কোনো প্রকল্পই বাস্তবতা সম্মত হয়নি। সবগুলো প্রকল্প স্বজনতোষী, পৃষ্ঠপোষকতা নির্ভরতার আঙ্গিকে নেওয়া হয়েছে।
“আপনি (সাংবাদিকদের উদ্দেশে) আমাকে একটা দেখান যে যেই প্রকল্প আপনার বাস্তবায়নযোগ্য হয়েছে এবং পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে হয়নি।”
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বুধবার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি ভবনে ২০২৫-৩০ পাঁচবছরের কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হয়; তাতে সভাপতি ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
পরে সম্মেলনে এসে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন চিন্তার সমালোচনা করায় বর্তমান সরকার চলমান মেগাপ্রকল্পগুলোর কী করবে বলে প্রশ্ন তোলা হয়।
জবাবে তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই একটা কমিটি হয়েছে এবং সে কমিটি কাজ শুরু করবে। এবং সেই কমিটি আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে তারা কাজ করবে।”
আগামী দিনের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ নিয়ে বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা প্রণয়নে একটা বড় রকমের আমাদের প্যারাডাইম শিফট করতে হবে। অর্থাৎ এগুলো (পূর্বের পরিকল্পনা) কাজও করছে না, এগুলো যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল সেগুলো কখনো বাস্তবায়িত হয়নি এবং এর সাথে বাস্তবায়নের যে কৌশল সেগুলো ছিল না।
“এগুলো মোটা দাগে সরকারের (আওয়ামী লীগ) এক ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমাদের সরকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার সাথে তো ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ পরিকল্পনার যে কমপ্লিমেন্টারিটি সেটা রাখতে হবে। আমাদের একই সাথে আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা কীভাবে কল্যাণকর রাষ্ট্রের দিকে যাব। আবার একই সাথে মনে রাখতে হবে যে বর্তমান বিশ্বের যে পরিবর্তনগুলো হচ্ছে সেই পরিবর্তনগুলো আগে আমরা ধারণ করব এবং ধারণ করে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে যাতে করে আমরা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হই।”
এ সময় ব্যক্তিখাত কীভাবে এ কৌশলে উপকৃত হবেন তারও ব্যাখ্যা দেন তিনি।
তিতুমীর বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে যে নীতির ক্ষেত্রে আপনার প্রেডিক্টেবলিটি থাকতে হবে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী জানবেন যে নীতিকৌশলগুলো আপনার প্রেডিক্টেবল আছে এবং এই পুরোর ক্ষেত্রে আমাদের একটা নতুন দার্শনিক ভিত্তি আছে। সেই দার্শনিক ভিত্তিটা হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন দরকার। অর্থাৎ সর্বজনের অংশগ্রহণে অর্থনীতি।
“যাতে করে প্রতিটি সমাজের প্রতিটি মানুষ প্রতিজন মানুষ দেখতে পান যে তার অংশগ্রহণ কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সাথে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে প্রতিটি থিম, জলবায়ু পরিবর্তন হোক আর অন্য বিষয় হোক, সেটাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। এবং একই সাথে আমরা নিশ্চিত করতে চাই ডেমোগ্রাফির, অর্থাৎ শিশু থেকে বয়স্ক প্রবীণ পর্যন্ত। একদিকে যেমন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কথা বলা দরকার, তেমনি লঞ্জিভিটি ডিভিডেন্ডের কথা বলা দরকার।”
এ উপদেষ্টা কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে ২০২৫ থেকে ৩০ সাল নাগাদ পঞ্চবার্ষিকী কৌশল নির্ধারণের একটা খসড়া করে ফেলবে বলে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে আগামী দুই থেকে তিনমাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কৌশল নির্ধারণে জিইডির ভাবনা
বৈঠকে জিইডি উপস্থাপনা তুলে ধরে। সেখানে পরিকল্পনা ভাবনার মধ্যে বর্তমান অর্থনীতিতে ৬ মাসের জন্য ‘রিকভারি’ সময় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মূলত চলমান সংকট মোকাবিলা করে স্থিতিশীলতা আনা হবে। একবছরের জন্য ‘রিস্টোরেশন’ সময় ধরা হয়েছে, যেখানে মূলত দেশের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত ‘রিকভারি’ করার কথা বলা হয়েছে।
এবং পাঁচবছরের দীর্ঘমেয়াদি সময়কে ‘রিকনস্ট্রাকশন’ আখ্যা দিয়ে এ সময় মূলত প্রবৃদ্ধি তরাণ্বিত ও বাড়ানোর দিকে মূল দৃষ্টি নিবন্ধ রাখার কথা বলেছে।
এসবের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জিইডি বলছে, প্রথম ১৮০ দিনে মূলত বিনিময় হার যৌক্তিকীকরণ, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীলকরণ এবং ব্যবসার লাইসেন্স সহজীকরণে সংস্কার করা।
একবছর মেয়াদে আর্থিক খাত পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা একীভূতকরণ প্লাটফর্ম তৈরি ও এসএমই অর্থায়ন বাড়ানোতে নজর দেওয়া।
পঞ্চবার্ষিকী মেয়াদে শিল্পের বহুমুখীকরণ, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা আওতা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক রূপান্তর করায় নিবন্ধ থাকবে বিএনপি সরকার।