Published : 13 Apr 2026, 07:22 PM
'নিঃশঙ্ক চিত্তে' নতুন বছর বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট।
বিগত বছরের সব ‘প্রতিকূলতা, আবর্জনা’ দূর করে 'আরো মানবমুখী' হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এবার বর্ষবরণ করবে দেশের সংস্কৃতিচর্চার পথিকৃৎ এই সংগঠন।
আজন্ম বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারে নিয়োজিত ছায়ানটের এবারের আহ্বান, ‘আমরা নির্বিঘ্নে সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই'।
সোমবার শেষ বিকালে রমনার বটমূলে মহড়ায় ব্যস্ত ছিলেন প্রায় ২০০ শিল্পী ও ছায়ানটের অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ষাটের দশকে রমনার বটমূলে যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিল ছায়ানট, এখন তা বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ।
১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এ উৎসব ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতিটি পহেলা বৈশাখেই হয়েছে। নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে সুরের মূর্ছনা আর কথামালায়। কোভিডের দুবছর এ আয়োজন হয় ভার্চুয়ালি।
২০০১ সালে ছায়ানটের বৈশাখ বরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। তাতে ১০ জন নিহত হন। এরপর থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে প্রতিবছর বর্ষবরণের এ আয়োজন চলছে।
বরাবরের মতোই সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে বাঙালি তার সর্ববৃহৎ উৎসব, নতুন বছর বরণ করতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয় ছায়ানটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
"ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজনে বলতে চাই, 'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির', সেখানেই বাঙালির জয়। বিগত বছরের সব প্রতিকূল আবর্জনা দূর করে আমরা হতে চাই আরো মানবমুখী। নতুন বছর বাঙালিকে সে শক্তি জোগাক।"

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, "বাঙালি যখন আপন বর্ষবরণের আয়োজন করছে, তখন মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধবাজরা হাজার বছরের পারস্য সভ্যতার ধ্বংসলীলায় মত্ত, বিশ্ব জনজীবন বিপর্যয়ের সম্মুখীন।"
সব শঙ্কা-অনিশ্চয়তা-আতঙ্কের অবসান চায় ছায়ানট, প্রত্যাশা করে মানবজাতির শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তি। স্বপ্ন দেখে, পৃথিবী জুড়েই মানবতা-সংহতি-সাম্য-সম্প্রীতির ফুল ফুটবে।
ছায়ানটের ভাষ্য, "সংকল্প হোক, মিলিত পথের সাথী হয়ে অন্ধকারের অর্গল খুলে, আলোর ভুবনে যাত্রা।"
নতুন বছরের ভোর সোয়া ৬টায় ছায়ানটের সুরবাণীছন্দের সূচনা হবে। এবারের অনুষ্ঠান গাঁথা হয়েছে ৮টি সম্মেলক, ১৪টি একক গান ও ২টি পাঠ দিয়ে। এতে অংশ নেবেন প্রায় ২০০ শিল্পী।
এবারের আয়োজনে সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং মানব ও দেশপ্রেমের গানের পাশাপাশি থাকছে লোক জনজীবনের সুর। বিশেষ সংযোজন, বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসঙ্গীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের দুর্দম গীতিকার-সুরকার মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
রমনা উদ্যান থেকে দুই ঘণ্টার এই আয়োজন একযোগে সম্প্রচার করবে বিটিভিসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। সরাসরি দেখা যাবে ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেল (youtube.com/@chhayanautbd) ও ফেইসবুক পেইজেও (facebook.com/chhayanautbd)।