Published : 05 Feb 2026, 05:30 PM
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ (ডিআরডব্লিউ) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক ওই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদে’ পরের বছর অনুসমর্থন করে বাংলাদেশ।
সনদটি বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সনদের মূলনীতি এবং অধিকারগুলোকে সম্পৃক্ত করে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৯ সালে একটি ‘প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হয়। এতে ১৮টি কর্ম এলাকায় ৩৫টি মন্ত্রণালয়ের জন্য স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংস্থা দুটি বলছে, সনদ ও আইন—দুটিরই বাস্তবায়ন প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হলেও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আইনি ও নীতিপর্যায়ে প্রায় সব সুবিধা ও সুরক্ষা প্রদানের বিষয়গুলো দেওয়া থাকলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রতি পদে পদে বঞ্চনার শিকার হয়েই চলেছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে মূলধারার রাজনৈতিক দল, আন্তর্জাতিক মাধ্যম এবং ইসির কাছে সংস্থা দুটি বেশ কিছু দাবি পেশ করেছে।
>> প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এবং এজন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ করা।
>> ২০১৩ সালের আইনটি বাস্তবায়ন বা পরিবীক্ষণের জন্য জাতীয় সমন্বয় কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জেলা কমিটি, উপজেলা কমিটি এবং শহর কমিটির সভা নিয়মিত আয়োজন করা। এছাড়া উপজেলা থেকে জেলা, এবং জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবেদন জমা দেবার যে প্রক্রিয়ার কথা আইনে বলা আছে, সেভাবে প্রতিবেদন জমা দেওয়া।
>> প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস’ দলিলটির পরিবর্তন করা।
>> সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী মানুষ এবং তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সম্মিলিতভাবে ১ শতাংশ কোটা বাড়িয়ে ২ শতাংশ কোটা রাখা।
>> প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে ডিস্যাবিলিটি ফোকাল পয়েন্ট আবার মনোনয়ন দিতে হবে এবং পরিবীক্ষণ কমিটির সভা নিয়মিত আয়োজন করা।
>> আন্তর্জাতিক কমিটির দেওয়া সমাপনী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যে সকল আইন বা নীতিমালা সংস্কার করা প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত সম্পাদন করা।
>> ২০২৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬ এবং ২০৩০ সালে দেওয়া ৫টি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা হাতে নেওয়া।
>> বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক যে কোনো বিষয়ে জাতীয়ভাবে পরিচালিত যে কোনো জরিপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য পাবার লক্ষ্যে একটি করে কলাম যুক্ত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচের সভাপতি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও ও একসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মহুয়া পাল।