Published : 17 Apr 2026, 08:24 PM
দেশের গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বণ্টনে ‘অসমতা রয়েছে’ বলে মনে করছে ‘ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।
সংগঠনটি বলছে, শহরেরও কিছু কিছু এলাকায় জ্বালানির বণ্টনের ভারসাম্যের ‘ঘাটতি’ আছে। বিদ্যমান জ্বালানি বণ্টনের ন্যায্যতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত না করতে পারলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ‘কঠিন হতে পারে’।
শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জ্বালানি সংকট এবং পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নগরায়ণ ও উন্নয়ন ভাবনা’ শিরোনামে এক সংলাপে এই বক্তব্য উঠে এসেছে বলে আইপিডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রাম-শহরের বিদ্যুৎ প্রাপ্তির যেমন বৈষম্য দেখা যাচ্ছে, তেমনি শহরের মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বৈষম্য আছে। শহরের প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের লোকেরা দুর্ভোগে পড়ছেন বেশি।”
সংলাপ অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এনার্জি ডিমান্ড ম্যাপিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় জ্বালানির চাহিদা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি, যা একটি বৈষম্য তৈরি করছে। এই বৈষম্য কমাতে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
“উন্নয়ন বাজেটের মতো বিদ্যুৎ বরাদ্দেও বৈষম্য রয়েছে, যা দেশের উন্নয়নকে এককেন্দ্রিক করে তুলছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে তথ্যনির্ভর পরিকল্পনা ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।”
আইপিডি বলছে, গণপরিবহনে গুরুত্ব দিতে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে বাস সার্ভিসে গুরুত্ব দেওয়া, সাইকেল ও পদচারীবান্ধব সড়ক তৈরি করলে জ্বালানির চাপ কমবে। পণ্য পরিবহনে রেলপথ ও নৌপথে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকাভিত্তিক এককেন্দ্রিক নগরায়ণ থেকে বের হয়ে বহুকেন্দ্রিক নগরায়নে জোর দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, “গ্রামে জ্বালানি ঘাটতির কারণে শহরমুখী প্রবণতা বাড়ছে, যা বিকেন্দ্রীকরণ ও টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।”
বাংলাদেশ ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্ট ফোরামের সভাপতি সাজেদুল হক গণপরিবহন ভিত্তিক যাতায়াত ব্যবস্থা, সমন্বিত বাস রুট পরিচালনা, ছায়াযুক্ত ফুটপাত ও পৃথক সাইকেল লেইন নির্মাণের ওপর জোর দেন।
আইপিডির রিসার্চ ফেলো ফরহাদুর রেজা বলেন, “বিশ্বব্যাপী ভবনের টেকসই ডিজাইনের মাধ্যমেই জ্বালানির ৪০–৫০ শতাংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়, তাই গ্রিন বিল্ডিং ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি জরুরি।”
তার মতে, ঢাকায় আরও উঁচু ভবন নির্মাণের কারণে জ্বালানির চাহিদা আরও বেড়ে যাবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নগরের অনেক এলাকায় বহুতল ভবনের বদলে মাঝারি উচ্চতার ভবন নির্মাণ কৌশলের দিকে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।