Published : 21 Dec 2025, 07:22 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহৃত বলে যে মোটরসাইকেলের তথ্য দিয়েছিল র্যাব, সেই বাইকটির একসময়ের মালিক আব্দুল হান্নানকে জামিন দিয়েছে আদালত।
রোববার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম হাসান শাহাদাত।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাসুম মিয়া জানান, হান্নানের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির ওপর আক্রমণ হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।


ওই বাইকটির নিবন্ধন নম্বর (ঢাকা মেট্রো ল-৫৪-৬৩৭৫) জানিয়ে তার মালিক হান্নানকে পরদিন বিকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে আটক করে র্যাব। এরপর ১৪ ডিসেম্বর সকালে তাকে পল্টন থানায় সোপর্দ করা হয়।
ওইদিনই ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হান্নানকে ৩ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।
রিমান্ড আবেদন শুনানিতে হান্নান আদালতকে বলেন, বাসায় পড়ে থাকায় বাইকটি তিনি শোরুমে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। অসুস্থ থাকায় মালিকানা পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।
রিমান্ড চলাকালে তাকে শোরুম মালিকের মুখোমুখি করা হয়। বিআরটিএ-তে তার নামে রেজিস্ট্রেশন করা দুটি গাড়ির তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি সুজুকি জিক্সার, অপরটি ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের। রিমান্ড শেষে ১৭ ডিসেম্বর হান্নানকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর মধ্যে ডিএমপি জানায়, সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ১৪ ডিসেম্বর হামলায় ব্যবহৃত হোন্ডা হর্নেট মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেট রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।

হত্যায় ব্যবহৃত হোন্ডা হর্নেট মোটরসাইকেলটির প্রকৃত নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো ল-৫৪-৬৫৭৪ জানিয়ে ডিএমপি জানায়, গুলি চালানোর সময় ঢাকা মেট্রো ল-৫৪-৬৩৭৬ নম্বরের ভুয়া প্লেট ব্যবহার করা হয়।
অথচ হান্নানের মোটরসাইকেল নম্বরটি সুজুকি ব্র্যান্ডের জিক্সার মডেলের বাইক নিবন্ধিত। এসব বিষয় জামিন আবেদনের শুনানিতে তুলে ধরা হয়।


হাদি আক্রান্ত হওয়ার পরপরই তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানেই বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। শনিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে তাকে কবি নজরুল ইসলামের সমাধি প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে পল্টন থানায় হাদি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। এ মামলায় আসামি হিসেবে সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অচেনা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
এ মামলার গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মো. মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। এদের মধ্যে হুমায়ুন ও হাসি দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড শেষে নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিরা রিমান্ডে রয়েছেন।
হাদির ওপর হামলা: ভুয়া নম্বর প্লেট ও মোটরসাইকেল উদ্ধার
হাদিকে গুলি: মোটরসাইকেল মালিক হান্নানের ৩ দিনের রিমান্ড
বাসায় পড়ে থাকায় বাইকটি শোরুমে বিক্রি করে দিয়েছিলাম: আদালতে হান্নান