৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

হাদির ওপর হামলা: ভুয়া নম্বর প্লেট ও মোটরসাইকেল উদ্ধার

হামলার সময় ওই মোটরসাইকেলে যে ভুয়া নম্বর প্লেটটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে ম্যানহোল থেকে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Dec 2025, 04:08 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:20 PM

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসইকেলটি উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

হামলার সময় ওই মোটরসাইকেলে যে ভুয়া নম্বর প্লেটটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে ম্যানহোল থেকে।

বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন।

চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।

গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে সেখান থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলায় ব্যবহৃত একটি হোন্ডা হর্নেট মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেটটি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকা থেকে গত রোববার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।

এর মধ্যেই মোটরসাইকেল মালিক সন্দেহে আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গ্রেপ্তার হান্নানের আদৌ কোনো যোগসূত্র মিলেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিটিটিসির একটি টিম সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট পরিবর্তনের বিষয়টি উদঘাটন করে।

“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরে বাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম আগারগাঁও বনলতা আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ির নিচ তলার পার্কিং থেকে মটর সাইকেল ও হেলমেটটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ভুয়া নম্বর প্লেট পরিত্যক্ত অবস্থায় ম্যানহোলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।”

পুলিশ বলছে, মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্তে ‘নিবিড়ভাবে’ তদন্ত করা হয়। হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির প্রথম মালিক ছিলেন আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। পরে শহিদুল, রাসেল, মার্কেটপ্লেস, ওবায়দুল ইসলাম, আনারুল, ওবায়দুলের হাত ঘুরে শুভ নামের একজন মোটরসাইকেলটি কেনেন।

মোট আট ব্যক্তির হাতবদলের পর হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী মো. কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে মোটরসাইকেলটি কেনা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

উদ্ধার মোটরসাইকেল, হেলমেট এবং ভুয়া নম্বর প্লেটটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করার কথা জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।