Published : 14 Jun 2026, 06:10 PM
কার্যসূচিতে থাকার পরও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের ‘অবৈধ পুশ ইন’ ও সীমান্ত হত্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত আলোচনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে।
কী কারণে স্থগিত করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন বিরোধী দলের সদস্য মীর আহমাদ বিনকাসেম।
বৃহস্পতিবার সরবরাহ করা রোববারের কার্যসূচিতে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্যের ১৪৭ বিধিতে আনা প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পরে দেওয়া সংশোধিত কার্যসূচিতে বিষয়টি রাখা হয়নি।
এদিন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরুর পর এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন আহমাদ বিনকাসেম, যিনি ব্যারিস্টার আরমান নামে পরিচিত।
তিনি বলেন, আগের কার্যদিবসে তাকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল, তার নোটিশটি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু অধিবেশন শুরুর কিছু আগে তাকে জানানো হয়, আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, আজকে কিছুক্ষণ আগে মূলতবি শাখা থেকে আমাকে জানানো হল, অনিবার্য কারণবশত, এই প্রস্তাবটি যদিও গৃহীত হয়েছিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেখানে চিঠি পাঠানো হয়েছি, অনিবার্য কারণবশত সেটা স্থগিত করা হয়েছে।”
স্থগিতের কারণ জানতে চেয়ে বিনকাসেম বলেন, “জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেটা কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, যেটা অনিবার্য কারণবশত সেটাকে স্থগিত করতে হল?
“দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, পরবর্তী কবে এটা আলোচনার জন্য নির্ধারিত হবে, দয়া করে এই হাউজকে অবহিত করা হোক।”
জবাবে বৈঠকের সভাপতি বলেন, “নোটিসটা আমার সামনেও আছে। যেহেতু এটা গৃহীত হয়েছে এবং স্থগিত করা হয়েছে, নিশ্চয়ই স্থগিত মানে টেম্পোরারি একটা মেজার।”
বাজেট অধিবেশনের সময়সীমার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের একটা ‘টাইম ফ্রেমিং কনস্ট্রেইন’ আছে, ‘মানি বিল’ পাস এবং অন্যান্য জিনিসগুলো।”
তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ আমরা প্রত্যাশা করছি, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারপূর্বক কোনো এক সময় আলোচনা হবে।”
মীর আহমদা বিনকাসেমের প্রস্তাবে বলা হয়, “দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে বিএসএফ ‘অবৈধ পুশ ইন’ ও সীমান্ত হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ্যে ঘোষিত ‘পুশ ইন’ তৎপরতার এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য বিধায়, জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি মহান জাতীয় সংসদে আলোচনা।”
সংসদ সচিবালয়ের মূলতবি ও অধিকার শাখা থেকে রোববার দেওয়া চিঠিতেও বলা হয়, মীর আহমাদ বিনকাসেম ১৪৭ বিধি অনুযায়ী প্রস্তাবের নোটিস দেন। ওই নোটিসের ওপর রোববারের আলোচনা ‘অনিবার্যকারণবশতঃ মাননীয় স্পিকার স্থগিত করেছেন’।
চিঠিটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবগতির জন্য পাঠানো হয়।
তবে স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ চিঠিতে বলা হয়নি। সংসদেও স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা আসেনি।