Published : 04 Nov 2025, 06:40 PM
প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষকের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বদলের প্রতিবাদ জানিয়ে আবারও এ দুই পদে শিক্ষক নিয়োগের পথ তৈরি করে শিশু কিশোরদের মানবিক বিকাশের রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি নিখিল দাস ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন এ দাবি করেছেন।
‘ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী’ গোষ্ঠী ‘তালেবানী কায়দায়’ বাংলাদেশে শিক্ষা কাঠামো তৈরি করতে চায় অভিযোগ করে সংগঠনটি বলছে, “সরকার কয়েকটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দলের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।”
ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে রোববার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন সৃষ্টি করা সংগীত শিক্ষক পদ বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে নতুন সৃষ্টি করা শরীরচর্চা শিক্ষকের পদটিও।
এ দুটি পদ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫' এ কিছু 'শব্দগত পরিবর্তন' আনা হয়েছে।
চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিবৃতিতে বলা হয়, “শিশুদের শারীরিক মজবুত গঠন ও সুষম মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে এই দুটি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর নেশা, মাদক সেবন, কিশোর গ্যাং, জঙ্গিবাদী প্রবণতা থেকে শিশু কিশোরদের রক্ষা করতে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার বিকল্প নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সরকার কয়েকটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দলের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এটি সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
“এই চিহ্নিত ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী তালেবানী কায়দায় বাংলাদেশে শিক্ষা কাঠামো তৈরি করতে চায়। এরা শারীরিক ও মানুষিকভাবে একটি পঙ্গু প্রজন্ম তৈরি করতে চায়। এই চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হুমকি ধামকিতে গত বছরে অক্টোবর মাসে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন কমিটি বাতিল করেছে সরকার। এ বছরের জানুয়ারিতে পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘আদিবাসী’ গ্রাফিতি সরিয়ে দিয়েছে।”
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে এই ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তি’ ‘মব’ তৈরি করে মাজার-মন্দির আক্রমণ, ভাঙচুর, ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যা, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলা, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে।
“একদিকে শ্রমজীবী মানুষ তাদের রুটি-রুজির জন্য রাস্তায় নামলে লাঠি পেটা করে, শিক্ষকদের মিছিলে জলকামান ব্যবহার করে, অন্যদিকে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে সরকার। প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষকের পদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত তার ধারাবাহিকতা মাত্র।”
আরও পড়ুন:
ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর আপত্তিতে প্রাথমিকের সংগীত শিক্ষক পদ বাদ