Published : 08 Jul 2025, 07:58 PM
বাংলাদেশে আরও উন্নত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালানোর জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ ইউরো দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
মঙ্গলবার ইউরোপীয় জোটের ঢাকা কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কোষাগারে এই অর্থ স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন একগুচ্ছ পরামর্শও দিয়েছে তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অনুদান সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতির একটা স্বীকৃতি। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ক্ষেত্রে এটা একটা উৎসাহও।
ইইউ বলছে, “অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জায়গা থেকে উন্নত সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে ইইউ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার।
“২০১৯ সাল থেকে ইইউ সামাজিক সুরক্ষা খাতে ২৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছে, যার মধ্যে ২ কোটি ইউরো জার্মানির। কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে দেওয়া হয়েছে আরও দেড় কোটি ইউরো।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকার থেকে জনগণের অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ৯০ শতাংশের বেশি সহায়তা দিতে পেরে ইইউ গর্বিত।
“৩০টি কর্মসূচিকে একীভূত করে একক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে; যার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বেড়েছে, এক ব্যক্তির একাধিক জায়গা থাকা কমেছে এবং ভালোভাবে লক্ষ্য ঠিক করা সম্ভব হয়েছে।”
শ্রমিক তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম তৈরির কথা তুলে ধরে সেখানে বলা হয়, সেখানে ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের সাড়ে ৬ লাখ শ্রমিকের তথ্য।
“কর্মক্ষেত্রে বা সেখানে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় কবলিত ব্যক্তিদের পেনশন প্রদানে এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিমের পাইলট কার্যক্রম চলছে এবং সেখানে যুক্ত করা হচ্ছে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ আরও বেশি খাতকে।”
সরকারের বেকার সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে একটি কারখানার ১২ শতাধিক শ্রমিককে সহায়তা দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, “সামাজিক সুরক্ষা হচ্ছে সম্মান, মর্যাদা ও সহনশীলতার বিষয়। এটা মানুষকে জীবনের অনিশ্চয়তা কাটাতে সহায়তা করে।
“বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ করতে যাচ্ছে, তখন অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সৌহার্দ্যের জন্য একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের পরের সময়ের জন্য নতুন মাত্রায় জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করছে ইইউ।
ইইউয়ের পরামর্শ হচ্ছে, “সংশোধিত কৌশলের লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে উন্নতি, শহর ও জলবায়ু বিষয়ক চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে আরও ভালো সাড়াদান এবং অর্থায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান বের করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাস্তবিক পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের একক রেজিস্ট্রি এমআইএসকে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথাও ইইউয়ের তরফে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অবদান রাখার মতো স্কিমকে শক্তিশালী করা এবং সেবা প্রদানের উন্নয়নের আহ্বান জানিয়ে ইইউ বলেছে, “সব নাগরিক যেন পুরো জীবদ্দশায় পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষায় প্রবেশাধিকার পান।”
সামষ্টিক অর্থনৈতিক এবং সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার গুরুত্বের কথাও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়কে ত্বরান্বিত করার কথা বিশেষভাবে বলছে ইইউ।