১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজিয়ার দেশে ফেরার আকুতি পূরণ হবে?

বাংলাদেশি এই নারী চার দশক ধরে ছাগল-মুরগি পালন করে টাকা জমিয়েছেন, যেন সেই অর্থ দিয়ে একদিন দেশে ফিরতে পারেন।

রাজিয়ার দেশে ফেরার আকুতি পূরণ হবে?
পাকিস্তানে পাচার হওয়া বাংলাদেশি নারী রাজিয়া বিবি। ছবি: জিও নিউজ

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Feb 2026, 12:00 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন প্রায় চার দশক আগে পাকিস্তানে পাচার হওয়া এক বাংলাদেশি নারী।

এ বিষয়ে তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়াম নওয়াজের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে। 

বাংলাদেশি ওই নারীর নাম রাজিয়া বিবি। তিনি বর্তমানে পাঞ্জাবের কাসুর জেলার পাতকি শহরের পাশের একটি গ্রামে বসবাস করেন। 

রাজিয়া বলেন, তিনি জীবনভর মা ও বোন থেকে আলাদা থাকার যন্ত্রণায় ভুগছেন। 

“মা-বোনের বিকল্প অন্য কেউ হতে পারে না। একজনের জীবনে মা সবকিছু।”

জিও নিউজের খবরে বলা হয়, রাজিয়ার জন্ম বাংলাদেশে। চার দশক আগে তাকে ভারত হয়ে করাচিতে পাচার করা হয়। শেষমেশ তার ঠাঁই হয় পাতকিতে।

মায়ের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে রাজিয়া বলেন, “আমি জানি না তিনি আর কতদিন বাঁচবেন। মা বেঁচে থাকতেই আমি তার মুখটা একবার দেখতে চাই।

এরমধ্যে অবশ্য একবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন রাজিয়া। কিন্তু পাকিস্তানের ইমিগ্রেশন বিভাগ তাকে বিমানবন্দরে আটকে দেয়। যদিও রাজিয়ার দাবি, তার সব কাগজপত্র বৈধ ও পূর্ণাঙ্গ ছিল।

তিনি বলেন, “আমি পাসপোর্ট করেছি, ভিসা করেছি এবং বিমানের টিকেটও কিনেছি। কিন্তু যখন আমি বিমানবন্দরে পৌঁছালাম, আমাকে আটকে দেওয়া হলো।”

পাচার হওয়ার ঘটনা শোনাতে গিয়ে রাজিয়া বলেন, ১৮ বছর বয়সে কারখানার এক সহকর্মী তাকে সোনা কেনাবেচার কথা বলে করাচিতে পাচার করে। পরে তাকে পাতকিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে এক ব্যক্তি তাকে নিজের প্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গ বিয়ে দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার রুপিতে কিনে নেন। 

“আমার সহকর্মী আমাকে প্রতারণার মাধ্যমে এখানে নিয়ে আসেন। প্রথমে আমাকে ভারতে নেওয়া হয়, তারপর সরাসরি করাচিতে।”

নিজের বৈবাহিক জীবনকে ‘অত্যন্ত কঠিন’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “এমন একটি দিনও নেই, যেদিন আমি আমার মা-বাবা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখার করার অনুরোধ জানাইনি।”

জিও নিউজ লিখেছে, বছর দুয়েক আগে স্থানীয় এক ফার্মাসিস্ট রাজিয়ার পরিবারকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করেন। 

ওই ফার্মাসিস্ট বলেন, বাংলাদেশে তার আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং ভিডিও কলের আয়োজন করা হয়।

রাজিয়ার স্বামী বেঁচে নেই। তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। এ কারণে পরিবারের কাছে ফেরার আকুতি আরও বেড়েছে রাজিয়ার। 

রাজিয়া বলেন, গত ৪০ বছর যাবত তিনি ছাগল ও মুরগি পালন করে টাকা জমিয়েছেন, যেন সেই অর্থ দিয়ে দেশে ফিরতে পারেন। 

দেশে ফেরার অধিকার পেতে আইনি লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন রাজিয়া। 

রাজিয়ার বিশ্বাস, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী তার কষ্ট বুঝবেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেবেন। 

তিনি বলেন, “মরিয়াম নওয়াজও একজন মা। যদি মাকে জীবিত দেখতে না পারি, তাহলে সেই শোকেই হয়ত মারা যাব।”