Published : 24 May 2026, 01:11 AM
রাজধানীর পুরান ‘ঢাকায় সাদেক হোসেন খোকা মাঠে’ সারি সারি বাঁধা কোরবানির পশু; কেউ খড় খাওয়াচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন পানি, আবার কেউ ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করছেন।
হাটের কোথাও শামিয়ানা, কোথাও আবার ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ছাউনি বানিয়েছেন বেপারীরা। হাটজুড়ে কোরবানির পশু থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু না হওয়ায় অলস সময় পার করছিলেন তারা।
শনিবার বিকালে রায় সাহেব বাজার থেকে ধোলাই খাল পর্যন্ত বিস্তৃত এ হাটে দেখা গেল এমন চিত্র।
হাটভর্তি গরু থাকলেও শনিবার ক্রেতার আনাগোনা দেখা গেল কম। বিক্রেতারা অপেক্ষায় রাত পেরিয়ে ভোরের আলোর জন্য। রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে তাদের আনুষ্ঠানিক বেচাকেনা।
কাগজে-কলমে পাঁচ দিনের হাট হলেও এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়েছে বিক্রি। আগেভাগে হাট ঘুরছেন ক্রেতারা। পছন্দ হলে পশুও কিনছেন। তবে রোববার থেকেই হাট জমে ওঠার প্রত্যাশা করছেন বেপারীরা।

খোকা মাঠের অস্থায়ী পশুর হাট রায় সাহেব বাজার মোড় থেকে শুরু করে টং মার্কেট, নারিন্দা মোড় হয়ে ধোলাই খাল পর্যন্ত চলে গেছে। বাঁশের খুঁটি পুঁতে তৈরি করা হয়েছে বেড়া। কোথাও টাঙানো বিশাল শামিয়ানা। একের পর এক ট্রাকভর্তি গরু এসে নামছে হাটে।
এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৭টি পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতায় রয়েছে ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটির আওতায় রয়েছে ১৬টি। পাশাপাশি রয়েছে গাবতলী ও সারুলিয়ায় পশুর স্থায়ী হাট।
ফরিদপুর থেকে ১৩টি গরু নিয়ে খোকা মাঠের হাটে আসা বেপারী শাহজালাল শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্রেতা হাটে এখনো আসেনি। যারা আসছেন তারা গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন। কেউ কেউ ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।”
নড়াইল থেকে ১৬টি গরু নিয়ে আসা ফয়সাল আহমেদও বললেন একই কথা।
তার ভাষ্য, “এখনো একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। ঢাকার মানুষ সাধারণত আগে গরু কেনেন না। কারণ গরু রাখার জায়গা কম, পরিচর্যারও ঝামেলা আছে। তাই ঈদের দুয়েক দিন আগে কিনতে আসে। আশা করছি সব গরুই বিক্রি হবে।”

ফরিদপুরের সদরপুর থেকে নয়টি গরু নিয়ে খোকা মাঠের হাটে এসেছেন এহসানুল হক নামের এক খামারি। তিনি বলেন, “আমার সবগুলো গরুই বড়, সর্বনিম্ন দাম ৩ লাখ টাকা। বিক্রি হয়ে যাবে আশা করছি, আর বেচাবিক্রি হবে তো শেষ দুই দিন।”
রায়সাহেব বাজার এলাকায় ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে গরু দেখতে আসা পোস্তগোলার বাসিন্দা মো. রায়হান মিয়া বলেন, “গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দাম বেশি। গরু দেখতে আসছি, আশা করি শেষ সময়ে হয়ত কিছুটা কমবে।”
খোকা মাঠের হাট ঘুরে দেখা যায়, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। অনেক ক্রেতা পরিবার ও বাজেট অনুযায়ী পশু খুঁজছেন। বড় গরুর প্রতি আগ্রহ থাকলেও বেশি দাম হাঁকার কারণে অনেকেই প্রথম দিকে কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১২টি গরু নিয়ে খোকা মাঠের হাটে আসা রজব আলী বেপারী বলেন, “সবসময়ই মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি থাকে। আমার সবগুলো গরুই এক লাখ ২০ হাজার থেকে দুই লাখের মধ্যে। আশা করি ভালো বেচাবিক্রি হবে।”
তিনি বলেন, “এখন মানুষ কিনছে না, দাম শুনে চলে যাচ্ছে। তারা ঈদের আগের দিন কিনবে।”
সাইফুল ইসলাম নামে আরেক গরু ব্যবসায়ী বলেন, “মানুষ দরদাম করছে, পরে কিনবে।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলছেন, “সড়কের ওপর কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হচ্ছে না। নিয়মের বাইরে কাউকে হাটের ইজারা দেওয়া হয়নি।”
হাট পরিচালনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নিয়মের এর ব্যত্যয় ঘটালে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”