Published : 28 Nov 2024, 04:52 PM
এক যুগ্ম সচিবের অপসারণসহ নয় দফা দাবিতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন সচিবালয়ের একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের ভেতরে ‘বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক কর্মসূচি থেকে এই মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর।
‘দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি ও দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগে অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব নাদিরা সুলাতানার অপসারণের দাবিও জানান বদিউল কবীর।
আগামী বুধবার সকালে ওই মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে বাদিউল বলেন, "দাবি আদায়ে আমরা মাঠে আছি। গড়িমসি না করে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।"
তিনি বলেন, "অর্থ বিভাগের সদস্য যুগ্ম সচিব নাদিরা সুলাতানা আমাদের দুজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরূপ অসদাচরণের জন্য এবং সচিবালয়ের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য করে বিশৃঙ্খলার দায়ে অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব নাদিরা সুলতানাকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।"
কী অভিযোগ
বদিউল কবীর বলেন, নন-ক্যাডার পদ থেকে উচ্চ পদে (সহকারী সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্মসচিব) পদোন্নতির জন্য পদ সংরক্ষণের দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। সেই প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে।
“উক্ত কমিটির সর্বশেষ সভার কার্যবিবরণীতে অর্থ বিভাগের সদস্য ছাড়া বাকি ১০ জন সদস্য স্বাক্ষর করেন। কিন্তু অর্থ বিভাগের সদস্য (যুগ্ম সচিব নাদিরা সুলাতানা) উক্ত কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর না করে দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করেন। আমরা অতিদ্রুত এর সমাধান চাই।"
পাল্টা অভিযোগ
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে নাদিরা সুলতানার মোবাইলে ফোন করলে নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, "নাদিরা অসুস্থ, আমি তার পাশেই আছি। কী জানতে চান বলুন।"
সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগে অপসারণ দাবি করেছে কর্মকর্তা কর্মচারীরা, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, "দেখুন আমি নাদিরার ঘরের লোক, নাদিরা অর্থের যুগ্ম সচিব, সে এখানে অর্থের প্রতিনিধি, তার আপন ভাই হলেও চিনবে না। নিয়ম যা বলে তাই করবে, এটাই স্বাভাবিক। এটা তার একক কোন সিদ্ধান্ত না। পুরো অর্থ বিভাগের সিদ্ধান্ত সে তো একা দিতে পারে না। সে তার মন্ত্রণালয়ের মতামত দেবে। এ ধরনের বিষয়ে সিনিয়র স্যারদের পরামর্শ নিয়েই সিদ্ধান্ত বা পরামর্শ দেওয়া হয়।
"অর্থের সাথে যাবে না বলে যদি সিনিয়ররা বা অর্থ বিভাগ মনে করে, তখন তো তার একার কিছু করার থাকে না। আর তাদের এই দাবিগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনেক ধরনের বিতর্ক চলছে, দেয়া যাবে কি না। যার কারণে সব বিভাগকে নিয়ে মতামত দিতে হয়। অন্যথায় সচিব বা উপদেষ্টা মহোদয় জিজ্ঞাসা করবে অর্থের সাথে যায় না এমন মতামত দিয়েছো কেন, তখন তো আরেক সমস্যা হবে। সবাই মিলে নেওয়া সিদ্ধান্তই স্বাক্ষর হয়।"
অসদাচারণের বিষয়ে তিনি বলেন, "নাদিরা তো একজন নারী অফিসার, তাকে যখন স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে, তখন সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এসময় আরও দুজন নারী অফিসার সঙ্গে বসা ছিল। এর আগের দিন ঘেরাও করেছে, চিল্লাচিলি করে ঘিরে ধরে মানসিকভাবে অপদস্ত করা এটা কোনভাবেই হতে পারে না। এটা ক্রাইম।
"আর যারা অভিযোগ করেছে, তারা ১৭ পৃষ্টার অর্ডারে বলল এখানে সাইন করেন। দুজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসে ওর দুজন ব্যাচমেটের সামনে দুর্ব্যবহার করেছে। পরে এখান থেকে চলে যায়, অপমান অপদস্ত করে। এখানে তাদের দুজন কীভাবে অসুস্থ হয়? এটা তাদের মিথ্যা অভিযোগ, সাজানো।"
৯ দফা
সচিবালয়ের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নয় দফা দাবি তুলে ধরেন বদিউল কবীর। দাবিগুলো হল-
১. ‘পতিত স্বৈরাচারের’ আমলে চাকরিতে ‘অন্যায়ভাবে আরোপিত’ সব আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।
২. ভুতাপেক্ষ জ্যেষ্ঠতা প্রদানসহ নিয়মিত চাকরির মত ভুতাপেক্ষভাবে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা দিতে হবে।
৩. কর্মচারী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পে-কমিশন গঠন এবং বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের পরিবর্তে ১০টি বেতন গ্রেড নির্ধারণ করতে হবে।
৪. পূর্ণাঙ্গ পে-কমিশন বাস্তবায়নের আগে সব স্তরের কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাস্তবায়ন এবং ২০তম গ্রেডে (অফিস সহায়ক) কর্মরতদের বেতন গ্রেড ১৭তম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে।
৫. আগের মত ১০০ শতাংশ পেনশন গ্র্যাচুইটির নিয়ম চালু করা, সব স্তরের কর্মচারীদের জন্য আগের মত টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড চালু করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক আয়সীমা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়করমুক্ত রাখা।
৬. রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মত সচিবালয় ভাতা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মত রেশন চালু করা।
৭. চাকরির বয়সসীমা ৫৯ বছর থেকে ৩ বছর বাড়িয়ে ৬২ বছর নির্ধারণ।
৮. সচিবালয় কর্মচারীদের তাদের কর্মস্থলের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ও যৌক্তিক পদনাম প্রদান।
৯. পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরমভাবে বঞ্চিত বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্যতানুযায়ী সংখ্যানুপাতে পদ সংরক্ষণের আদেশ জারি করতে হবে।
সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীরের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব নিজাম উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মো. তোয়াহা, মো. শাহীন, বেলাল হোসেন, সুমন, নেতা মাহে আলম তৌহিদুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন, অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি নুরুজ্জামান, জনপ্রশাসনের প্রতিনিধি আরিফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম।