Published : 22 Mar 2026, 09:35 PM
পরিবারের নয় সদস্যকে নিয়ে হাতিরঝিলে ঘুরতে আসেন উজ্জ্বল হাওলাদার, কোলে ছয় মাসের ছেলে আব্দুল্লাহ আল আয়ান।
হাতিরঝিল পার্কে ঘোরাঘুরি আর ছোট্ট আয়ানের সঙ্গে অন্যদের খুঁনসুটির সময়ে ব্যবসায়ী উজ্জ্বল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফুল ফ্যামিলি এসেছি। ঈদের দিন চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়েছিলাম, আর বাসার কাছে হাতিরঝিলে আসলাম।”
ঈদে ফাঁকা ঢাকায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন উজ্জ্বল। তার কথায়, “যানজট নেই, আবহাওয়াও বেশ ভালো। ঘুরতে বেশ মজা লাগছে। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে সময় কাটাব।”
তার স্ত্রী আফসানা আক্তার লিমা বলেন, “সবাই মিলে একসঙ্গে ঘুরতে এসেছি। হাতির ভাস্কর্য দেখে আর বিভিন্ন খেলনার জিনিসপত্র কিনতে পেরে বাচ্চার অনেক খুশি।”
ঈদের পর দিন বিকালে উজ্জ্বল ও লিমার মত অনেকেই সপরিবারে হাতিরঝিলে বেড়াতে আসেন। নানা বয়সের মানুষের সমাগমে জমজমাট হয়ে ওঠে হাতিরঝিল এলাকা। ঈদ আনন্দে মেতে ওঠা মানুষের উপস্থিতিতে রঙ-বেরঙের বেলুন, শিশুদের খেলনা আর খাবার পসরা বসান বিক্রেতারা।

দর্শনার্থীরা বলছেন, যান্ত্রিক কোলাহলের মধ্যে গাছগাছালি দিয়ে সাজানো এই এলাকায় ঘোরাঘুরির একটা সুযোগ পাওয়া যায়। বৃষ্টিবিহীন আবহাওয়ার কারণে ঘুরেও স্বস্তি পাওয়া যাওয়ার কথা বলেন তারা।
হাতিরঝিলের প্রতীক হিসেবে পার্কেই তৈরি করা হয়েছে বেশ কিছু ভাস্কর্য। পাশেই সৌন্দর্যবর্ধনের উপকরণ হিসেবে রাখা আছে একটি পরিত্যক্ত ট্যাংক।
ওই ট্যাংকে চড়ে শিশুদের আনন্দ মেতে উঠতে দেখা গেছে। দর্শনার্থীরা অনেকে হাতির ভাস্কর্যের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
যাত্রাবাড়ী থেকে স্কুল পড়ুয়া ছেলে আবরার হোসেন আর মেয়ে সামিয়া জাহানকে নিয়ে ঈদের দ্বিতীয় দিন হাতিরঝিলে ঘুরতে আসেন আবু সালেহ ও শামসুন নাহার দম্পতি।
হাতিরঝিলের ভিন্ন প্রান্তে ঘোরাঘুরি আর ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ার পর হাতিরঝিল পার্কে এসে বিরতি নিচ্ছিলেন তারা।

আবু সালেহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি। আজকে ঘুরতে বের হলাম। এখানে ঘুরে আর ছবি তুলে বাচ্চারা অনেক আনন্দ পাচ্ছে।”
তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া সামিয়া জাহান বলে, “হাতির সঙ্গে ছবি তুলেছি। চটপটি খেয়েছি। বেলুন কিনে দিয়েছে মা। অনেক মজা পাচ্ছি এখানে এসে।”
এফডিসি প্রান্তের জেটি থেকে টিকেট কেটে ওয়াটার ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষার সময় কথা হয় মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে আসা আফজাল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে। স্ত্রী, দুই সন্তান আর দুই ভাতিজাকে নিয়ে হাতিরঝিলে ঘুরতে আসার কথা বলেন তিনি।
আফজাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রথমে আমরা ওয়াটার ট্যাক্সিতে ঘুরব। তারপর গুলশানের পাড়ে গিয়ে সময় কাটাব। তারপর আবার ওয়াটার ট্যাক্সিতে এখানে আসব, বাসায় যাব।”

ওয়াটার ট্যাক্সির এফডিসি জেটির ইনচার্জ জয়নাল আবেদিন বলেন, অফিস খোলার দিনগুলোতে নিত্যদিনের যাতায়াতের জন্য মানুষ ওয়াটার ট্যাক্সি ব্যবহার করলেও এখন মূলত আনন্দের জন্য চড়ছে।
অন্যান্য ঈদে টু-ওয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকলেও এবার কেবল ওয়ান-ওয়ে চলার কথা বলেন জয়নাল আবেদিন। ভাড়াও স্বাভাবিক সময়ের মতো গুলশান জেটি পর্যন্ত ৪০ টাকা এবং পুলিশ প্লাজা ও রামপুরা পর্যন্ত ২৫ টাকা করে।

জয়নাল বলেন, “অন্যান্য বার আমরা টু-ওয়ে সার্ভিস দিতাম। টিকেট কেটে উঠে নির্দিষ্ট সময় ঘোরাঘুরির পর আবার এখানে ফিরে আসত। এবার জেটি থেকে জেটিতে যাচ্ছে।”
ঈদের দিন বিকালে দর্শনার্থীদের ব্যাপক চাপ থাকলেও পর দিন রোববার তা কমে আসার কথা বলেন তিনি। ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি ওয়াটার ট্যাক্সি চলার তথ্য দেন তিনি।
আফজাল বলেন, “মানুষ একক টিকেট কিনে ভ্রমণ করছেন। ১৫-২০ জনের বড় দল এসে যদি চায়, তাহলে ৩২ সিটের ওয়াটার ট্যাক্সি রিজার্ভে দিচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে আধা ঘণ্টা প্রায় আড়াই হাজার টাকা।