Published : 06 May 2026, 12:04 AM
বিগত সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সরকারের চেষ্টার সমালোচনা করে এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘সহজ শর্তে’ স্বাধীনতা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন স্বাধীনতাও দেওয়া হবে না, যাতে আবার হলি আর্টিজানের মতো ঘটনা না ঘটে।
মঙ্গলবার রাতে বনানীতে ঢাকা শেরাটন হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোক্তাদের এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “২০১০ সালে, আবার ২০২৫ সালে এও আমরা দেখেছি কী চেষ্টা চলেছিল এই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোকে কীভাবে গভর্নমেন্টের অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে নিয়ে আসার।
“এভাবে আমরা যদি ‘সিরিয়াসলি মনিটরিং’ করতে থাকি আর আমাদের ‘রেড ট্যাগ’ লাগাতে থাকি তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী দিনে কাজ করতে পারবে না। ‘লেট দেম হ্যাভ দেয়ার ওউন ফ্রিডম। উইথ সিম্পল বারস্।”
তবে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, “আবার এমন স্বাধীনতা দেব না, আবার হলি আর্টিজেন যেন না হয়। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে। এটা অবিশ্বাস্য যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জঙ্গি কারখানা হয়ে উঠেছিল।”
বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে।
পাঁচ তরুণ জঙ্গি রোজার ঈদের এক সপ্তাহ আগে পিস্তল, সাব মেশিনগান আর ধারালো অস্ত্র হাতে ঢুকে পড়েছিল সেই রেস্তোরাঁয়।
তারা জবাই ও গুলি চালিয়ে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।
পরে কমান্ডো অভিযানে ওই জঙ্গিদের হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, একজন ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আরেকজন পড়তেন স্কলাসটিকায়। আর দুজন ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সে সময় সন্দেহভাজন হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহায়তা করবে তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, “সরকার অবশ্যই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু সেইভাবে নয় যে প্রতিদিন আপনাদের নিয়ে চিন্তিত থাকতে হবে। না, ওইভাবে নয়। আপনারা কীভাবে এগিয়ে যেতে পারেন, সরকার সে ব্যাপারে সহায়তা করবে।
“সরকারকে শুনতে হবে আপনাদের কাছ থেকে, সমস্য শুনে তা সমাধান করতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন-ইউজিসিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী৷
ইউজিসিতে একটি ফাইল দুই বছর আটকে থাকার অভিযোগ শুনেছেন তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইউজিসির যে গল্প শুনলাম এখানে এটা আমার ধারণাই ছিল না। দুই বছর একটা ফাইল আটকে থাকে কী করে।”
তার মতে, সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে সরকারি ফাইল নিষ্পত্তি করা উচিত।
সরকারের মেয়াদ ১৮০ দিন হওয়ার আগেই শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. সবুর খান।
সভায় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।