Published : 17 Nov 2025, 06:15 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণদণ্ডের রায়ে ‘মজলুম জনতার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ।
তিনি বলেছেন, “এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়েছে। এই রায় আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে জনতার ওপরে দমনপীড়নের বিরুদ্ধে এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
মানবতাবিরোধী অপরাধে সোমবার শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে ইউনুস আহমদ বলেন, “পতিত ফ্যাসিবাদ অনেক বিস্তৃত অপরাধচক্র গড়ে তুলেছিল। সেই চক্রের প্রধান সম্পর্কে একটি মামলার রায় হল। পর্যায়ক্রমে সকল অপরাধীকেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এই বিচার প্রক্রিয়ার সাথে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের সবাইকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঙপক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি আমাদের সন্মান ও বেদনা আবারো ব্যক্ত করছি।
“আইন তার নিজস্ব গতিতে কাজ করবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি। আইনের নিজস্ব গতি ও ধারাতেই সকল অপরাধের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা সরকারের কাছে আহবান করবো, রায় ঘোষিত হওয়ার পরে এখন আবশ্যক সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততার সাথে রায় বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি বলেন, “আজকের দিন আমাদের জন্য আনন্দের দিন। এই দিনে আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করব। দেশবাসী কাউকে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতেও দেবে না এবং আইন হাতে তুলে নেয়ার মত কোনো কাজ কেউ করবো না। আল্লাহ তায়ালা বাংলাদেশকে শান্তিময় করে তুলুন।”
শেখ হাসিনার রায়কে ‘ফ্যাসিবাদ ও জুলুমের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায়’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক ও মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ।
সোমবার তাদের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “১৬ বছরের স্বৈরশাসন, জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন ও গণহত্যার দায়ে সাবেক ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত ঐতিহাসিক রায় দেশের জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই রায়কে আল্লাহর ন্যায়বিচারের সুস্পষ্ট প্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করছে।
“বিগত ১৬ বছর এই ভূমি ভোগ করেছে নির্যাতন, গণহত্যা, দেশপ্রেমী নাগরিকদের কারাবন্দি, উলামায়ে কেরামের টার্গেটিং এবং স্বৈরশাসনের ভয়ানক শাসনের অধীনে। আজ সেই দুর্নীতিমূলক ও জুলুমপ্রবণ শাসনের হিসাব আদালতের কাঠগড়ায় প্রতিফলিত হয়েছে। আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডের রায়— আমরা এটিকে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই রায় শুধু একজন শাসকের নয়, এটি ফ্যাসিবাদ, জুলুম ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত বার্তা। জুলুমের রাজনীতি কখনো টেকসই হয় না। জুলুমকারীরা শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়। আল্লাহর বিচার কখনো ব্যর্থ হয় না। আজকের রায় দেশের রাজনীতিতে ন্যায়, সত্য ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে নতুন যুগের সূচনা হবে- এটাই আমাদের অটল বিশ্বাস “