Published : 01 Nov 2013, 12:02 AM
বৃহস্পতিবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের নির্বাচিত পরিচালক তাহসিনা খাতুন বলেন, “সরকার ব্যাংকের মালিক ৮৪ লাখ দরিদ্র নারীকে ক্ষমতাহীন করার যে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
“কিছুদিন আগে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা খর্ব করে সরকার নিযুক্ত চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করার ‘পাঁয়তারা’ সরকার করছে বলেও দাবি করেন তাহসিনা।
“আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকৃত মালিক এর ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডারকে ক্ষমতাহীন করার এবং ব্যাংকটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সরকারি উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী সমিতির সভাপতি সামশুল আলম বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক ছিল একটি রাজনীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের ১২ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জনই হলো ৮৪ লাখ সদস্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি।
গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ এর ৯(খ) নম্বর অনুচ্ছেদে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ঋণ গ্রহীতা শেয়ার হোল্ডার গ্রহণ কর্তৃক ৯ জন পরিচালক নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এ বিধি বলতে যা বোঝানো হয়েছে, তা হল গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীদের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন না হয়ে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালক নির্বাচিত হবে।
“এর ফলে যে সুশৃংখল কাঠামোর উপর ভিত্তি করে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালিত হতো সে কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।
“আমরা গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালক নির্বাচনে বাহিরের কোন হস্তক্ষেপ চাইনা।”
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানও ছিলেন।