ঢাকা, মে ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে সরকার নতুন শিক্ষানীতি অনুমোদন করেছে।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুমোদন হওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, "প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করা হয়েছে এবং এটা হবে অবৈতনিক, সার্বজনীন এবং বাধ্যতামূলক।"
তিনি জানান, মাধ্যমিক শিক্ষার স্তর নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। দশম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা, পৌরসভা অথবা থানা পর্যায়ে অভিন্ন প্রশ্ন পত্রে। এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। পঞ্চম শ্রেণীর ফলাফলের ওপরও থাকবে বৃত্তির ব্যবস্থা।
এছাড়াও ৩ বছর মেয়াদী ডিগ্রী কোর্সকে পর্যায়ক্রমে ৪ বছর মেয়াদী অনার্স কোর্সে পরিণত করা হবে বলেও শিক্ষা নীতিতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, "১৯৭৫ সালের ড. কুদরত-ই খুদা এবং ১৯৯৭ সালের অধ্যাপক শামসুল হক শিক্ষা কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত ও সুপারিশ নেওয়া হয়েছে।"
নতুন শিক্ষানীতিতে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদী প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করার কথা বলা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর জন্য নিজ নিজ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা শিখতে পারে সেলক্ষ্যে আদিবাসী শিক্ষক ও পাঠ্য পুস্তকের ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষা নীতিতে মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'মাদ্রাসা শিক্ষার অর্থ হলো সর্ব শক্তিমান আল্লাহতায়ালা ও তার রাসুল (সঃ)-এর প্রতি সরল বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং শান্তির র্ধম ইসলামের প্রকৃত মর্মার্থ অনুধাবনে সক্ষম করে তোলা।'
শিক্ষার অন্যান্য ধারার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইবতেদায়ী পর্যায়ে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষাসহ নির্দিষ্ট শ্রেণীর পাঠ্যসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়সমূহ অর্থাৎ বাংলা, ইংরেজি, নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, গণিত, সামাজিক পরিবেশ এবং জলবায়ূ পরিবর্তনের ধারনাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিচিতি, তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। একইভাবে মাধ্যমিক পর্যায়ে নির্ধারিত বিষয়সমূহ বাধ্যতামূলক থাকবে।'
আবুল কালাম আজাদ আরো জানান, শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি জানান, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণের জন্য বেসরকারী শিক্ষক কমিশন গঠন করা হবে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষে প্রতিটি বিভাগীয় সদরে এর কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পরবর্তিতে এসব কেন্দ্রকে অনুমোদনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা হবে।
নতুন শিক্ষা নীতির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, "এ শিক্ষা নীতির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো কাউকে বাদ না দিয়ে জাতি, বর্ণ, ধর্ম, শ্রেণী নির্বিশেষে সকলকেই শিক্ষার আওতায় আনা। দেশে বিরাজমান আবহ ও উপাদান সম্পৃক্ত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা।"
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ