২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কলাবাগানের ধর্ষণ-হত্যার মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত

ঢাকার কলাবাগানে ‘ও’ লেভেলের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Nov 2021, 10:46 PM

Updated : 02 Aug 2022, 06:36 PM

মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের পর ঢাকার মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি সোমবার মামলাটির নথিপত্র ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর আদালতে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার জাফর আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এই তথ্য জানান।

ওই শিক্ষার্থীর বন্ধু ফারদিন ইফতেখার দিহানকে একমাত্র আসামি করে গত ৮ নভেম্বর হাকিম আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন পিবিআই পরিদর্শক খালেদ সাইফুল্লাহ।

গত ৭ জানুয়ারি কলাবাগানে দিহান তার বাড়ি থেকে তার ওই বন্ধুকে ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তার আগেই তার মৃত্যু ঘটে।

এরপর দিহানকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন মেয়েটির বাবা। পুলিশ তখন দিহানকে গ্রেপ্তার করে।

ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেছিলেন, “মেয়েটির শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।”

কারাগারে থাকা দিহানের দাবি, ‘পরস্পরের সম্মতিতে’ তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হয়েছিল। তখন ওই মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঘটনার তদন্ত করে দেওয়া অভিযোগপত্রে খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “ভিকটিমের (শিক্ষার্থী) যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হওয়ার একমাত্র কারণ, আসামি দিহান তাকে ফুসলিয়ে তার নির্জন বাসায় এনে অমানবিকভাবে ধর্ষণ করেন। এছাড়া বর্বরোচিত ও পৈশাচিকভাবে ফরেন বডি ভিকটিমের গোপনাঙ্গে প্রবেশ করান। ধর্ষণের সময় আসামি দিহানের অমানবিক কার্যকলাপের কারণে গোপনাঙ্গে প্রচুর রক্তক্ষরণের সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগী অচেতন হয়ে পড়েন।

“আসামি ধর্ষণের বিষয়টি কৌশলে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ভিকটিমকে সঙ্গে নিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। দিহান ভিকটিমের পরনের ভেতরের পোশাক ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে নিজের টি শার্ট ও প্যান্ট পরিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু পুলিশ খুব দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ডাকে সাড়া দিয়ে সেখানে চলে যাওয়ায় আসামি দিহান পালানো বা অন্য কোনো পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হন।”

আসামি দিহানের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই ধারায় বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

অভিযোগপত্রে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী করা হয়েছে ৫৫ জনকে।

আরও পড়ুন

ঢাকায় বন্ধুর বাড়িতে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু  

কলাবাগানে কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা  

দিহানের ডিএনএ পরীক্ষায় আদালতের অনুমতি  

কলাবাগানে কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যা: ‘দায় স্বীকার’ করে বন্ধুর জবানবন্দি  

পুলিশ মেয়েটির বয়স বেশি দেখাতে চেয়েছিল, অভিযোগ মায়ের  

যা বললেন দিহানের মা-ভাই