পি কে হালদারের তিন সহযোগী গ্রেপ্তার

বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 March 2021, 12:32 PM
Updated : 16 March 2021, 12:47 PM

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এক মামলায় মঙ্গলবার বিকালে মতিঝিল এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডি সৈয়দ আবেদ হাসান, ভাইস প্রেসিডেন্ট নাহিদা রুনাই ও সিনিয়র ম্যানেজার রাফসান রিয়াদ চৌধুরী।

প্রনব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তার তিনজনকে কমিশনের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।"

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে কাগুজে প্রতিষ্ঠান 'আনাম কেমিক্যাল লিমিটেডের' নামে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২৪ জনকে আসামি করে গত ২৪ জানুয়ারি মামলা করে দুদক।

গ্রেপ্তার তিনজন ছাড়া মামলায় পি কে হালদার, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, সাবেক এমডি মো. রাশেদুল হক, নয়জন বোর্ড সদস্য, পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী, পি কে হালদারের অত্মীয় ও অন্যান্য সহযোগীদের আসামি করা হয়। মামলার পর ওইদিনই রাশেদুল হক ও উজ্জ্বল কুমার নন্দীকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

দুর্নীতি দমন কমিশন

২৪ জানুয়ারি ওই মামলা দায়েরের পরের দিন গত ২৫ জানুয়ারি আরও চারটি মামলা করে দুদক।

'ভুয়া ও কাগুজে' পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নামে পাঁচটি মামলায় ৩৫১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাতের অভিযোগে পি কে হালদারসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়।

এছাড়া গত ৯ মার্চ দশটি ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে পি কে হালাদারসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে আরও ১০টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) ফাইল ছবি

এই চার কোম্পানি হল- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।

এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।

এর মধ্যে আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে গত বছরের শুরুতে পি কে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ২৭৫ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, পি কে হালদার তার নিজের, আত্মীয়, বন্ধু ও কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে আটটি কোম্পানিতে বিপুল অংকের টাকা বিনিয়োগ করেছেন, যার ‘বৈধ কোনো উৎস’ অনুসন্ধানে মেলেনি।

পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। তার মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক