অর্থপাচার: এস আলমের বিরুদ্ধে রুল খারিজ, চাইলে অনুসন্ধান করতে পারবে দুদক-বিএফআইইউ

গত বছরের ৬ অগাস্ট হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছিল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Feb 2024, 02:56 PM
Updated : 5 Feb 2024, 02:56 PM

এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান নিয়ে পাঁচ মাস আগে হাই কোর্টের দেওয়া স্বতঃপ্রণোদিত রুল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বা বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে নিজস্ব উদ্যোগে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে পারবে।

হাই কোর্টের আদেশ বাতিল চেয়ে সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে সোমবার আবেদনটি নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ।

আদালতে এস আলমের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আজমালুল হোসেন কিউসি ও আহসানুল করিম। দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান এবং আবেদনকারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০২৩ সালের ৪ অগাস্ট ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে ‘এস আলম’স আলাদিন‘স ল্যাম্প’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দুদিন পর ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার সুমন।

পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম সিঙ্গাপুরে ‘কমপক্ষে এক বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন। যদিও বিদেশে বিনিয়োগ বা অর্থ স্থানান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো অনুমতি তিনি নেননি।

ডেইলি স্টার লিখেছে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাইরে বিনিয়োগের জন্য এ পর্যন্ত ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিলেও চট্টগ্রামভিত্তিক বৃহৎ এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম সেই তালিকায় নেই। তার পরও, গত এক দশকে সিঙ্গাপুরে এস আলম অন্তত দুটি হোটেল, দুটি বাড়ি, একটি বাণিজ্যিক স্পেস এবং অন্যান্য সম্পদ কিনেছেন। এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপায়ে কাগজপত্র থেকে তার নাম বাদ রাখা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নথির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশ থেকে ৪০ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার বিদেশে বিনিয়োগের জন্য নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বৈধ উপায়ে সিঙ্গাপুরে এক লাখ ৭ হাজার ডলার পাঠিয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানও এস আলমের মালিকানাধীন নয়।

ওই দিন শুনানি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেয় বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাই কোর্ট বেঞ্চ।

এস আলমের অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্টদের দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় সেই আদেশে।

আর এই অর্থ পাচার ঠেকাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যর্থতা’ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে এস আলম ও ফারজানার আবেদনের শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৩ অগাস্ট বিষয়টির ওপর ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়ে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

ওই আপিলের শুনানি নিয়ে সোমবার বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিল আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ।

এস আলমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি বলেছি, হাই কোর্টের ‘রুল ইস্যুয়িংটা’ ভুল ছিল। রুলে হাই কোর্ট বলেছে - এস আলম ও তার স্ত্রী বিদেশে অর্থ পাচার করে অপরাধ করেছেন। বিচার হওয়ার আগেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর আগে তাদের বক্তব্যও শোনা হয়নি। তাই রুল খারিজযোগ্য।“

আদেশের পর সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, “এস আলম গ্রুপের মালিক এস আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধানের বিষয়ে হাই কোর্টের জারি করা রুল আপিল বিভাগ খারিজ করলেও সংশ্লিষ্টরা চাইলে এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে পারবে।”

রুল খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট নিজস্ব উদ্যোগে অনুসন্ধান করতে চাইলে এই আদেশ বাধা হবে না।

আরও পড়ুন-

Also Read: এস আলমের ‘অর্থপাচার’: অভিযোগ অনুসন্ধানে সুমনকে রাখার নির্দেশ

Also Read: এস আলমের ‘অর্থপাচার’: পত্রিকার খবর অনুসন্ধানের নির্দেশ হাই কোর্টের