মিরপুরে আন্দোলনের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা
ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন কয়েকজন।
ঢাকার মিরপুরে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কালশী রোডে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন কয়েকজন। কয়েকজন আবার হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এদিক (মিরপুর ১১) থেকে যখন শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে, তখন তারা কালশীর দিকে সরে যায়। সেই সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা মিরপুর ১১-এর দিকে আসছিল। দলছুট অবস্থায় পেয়ে একজনের ওপর হামলা চালানো হয়।”
ওসি বলেন, আহত পুলিশ সদস্য একজন কনস্টেবল, তার নাম মো. সাইমন। তিনি বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এদিন সকাল থেকে পল্লবীর শিল্প এলাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। সে সময় তাদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা গেছে।
এরপর শ্রমিকরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তখন শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। মিরপুর ১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ চলায় এ স্টেশনের ভেতরে আটকা পড়েন বহু যাত্রী।
এর মধ্যে পূরবী শিল্প এলাকার বিভিন্ন গলি থেকে অন্তত পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য বলে ভাষ্য পুলিশের।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা পুলিশের ওপর হামলারত অবস্থায় ছিল।
“গ্রেপ্তাররা কোনো পোশাক শ্রমিক না। তারা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সদস্য বলে আমরা প্রথমে আইডেন্টিফাই করেছি। তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আন্দোলনকারীদের আমরা প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।”
