Published : 27 Mar 2026, 08:51 PM
ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় পশুপাখির সংখ্যা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার চিড়িয়াখানায় ‘আকস্মিক পরিদর্শনে’ গিয়ে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সাধারণ দর্শনার্থীর মত টিকিট কেটে ভেতরে যান এবং প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানকালে বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচা, প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী প্রথমে প্রাণী পুষ্টি শাখায় গিয়ে প্রাণীদের খাবারের মান ও পরিমাণ যাচাই করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাণীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচর্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিড়িয়াখানার পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা ও কোনো ধরনের ত্রুটি রয়েছে কি না তা সরেজমিনে দেখতেই প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শন।
তিনি দর্শনার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চান।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ সময় বেদখল হওয়া চিড়িয়াখানার প্রায় ৭ একর জমি দ্রুত পুনরুদ্ধারের নির্দেশনা দেন।
সেই সঙ্গে পাবলিক টয়লেট বৃদ্ধি, দর্শনার্থীদের বসার স্থান সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট মেরামত, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং পশুপাখির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।
তিনি বর্তমান বাজেটের মধ্যেই ‘দৃশ্যমান উন্নয়ন’ কাজ দেখতে চান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কাউকে না জানিয়ে এখানে এসেছি, যাতে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায়। পরিচ্ছন্নতা, বসার ব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন কিছু প্রাণী আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
প্রাণীদের খাদ্য সরবরাহ সন্তোষজনক হলেও দর্শনার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশ প্রত্যাশা করেন, সে অনুযায়ী ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চিড়িয়াখানাকে আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনা করতে হবে, এটি একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে নিয়ে এটিকে লাভজনক ও দর্শনার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।”
প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার, চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।