Published : 24 Sep 2024, 06:52 PM
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারে সব দিক পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন এই সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে মূল সংস্কার শেষে আগামী দেড় বছরের মধ্যে একটি নির্বাচন হতে পারে বলে সোমবার রয়টার্সকে বলেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বদিউল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচন কমিশনের সংস্কারও তো এই সময়ের মধ্যে করতে হবে; এই সময়ের মধ্যে তারা নির্বাচন ব্যবস্থার কী কী সংস্কার করছেন।
তিনি বলেন, “সব নির্বাচনি ব্যবস্থা নিয়ে, নির্বাচনি ব্যবস্থার সব দিক নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করব এবং তার ভিত্তিতে সুপারিশ প্রণয়ন করব। এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কিন্তু আমাদের নয়। ৯০ দিন আমাদের সময় দেওয়া হয়েছে।”
১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সেনাপ্রধানের মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সময়ের মধ্যে সংস্কার করে নির্বাচন সম্ভব কি না জানতে চাইলে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “এটা আমার জানার কথা নয়। আমার ধারণা, সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই এটা নির্ধারিত হবে। আমার এ ব্যাপারে কিছুই করার নেই।
“আমি মনে করি এটা (সংস্কার) দীর্ঘায়িত হবে। রাজনৈতিক দল ও সরকারের সংলাপ হবে এবং একটা রোডম্যাপ তৈরি হবে। তার ভিত্তিতেই বোধহয় সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত হবে।”
কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা কমছে
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর নারী শিশুরদের প্রতি সহিংসতা তুলনামুলকভাবে কমেছে বলে জানিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এর ‘কন্যাশিশুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন’।
প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের প্রথম আট মাসের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, ২০২৪ সালে ২৮ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর ২০২৩ সালে ১১৭ জন শিশু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।
২০২৪ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ২২৪ জন নারী শিশু, ২০২৩ সালে হয়েছিল ৫৯৩ জন। ২০২৪ সালে ৮১ জন নারী শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, ২০২৩ সালে করা হয়েছিল ১৩৬ জনকে।
২০২৪ সালে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ১৩৩ জন কন্যা শিশু, ২০২৩ সালে আত্মহত্যা করেছিল ১৮১ জন।
২০২৪ সালে অপহরণ ও পাচার হয় ১৯ জন মেয়ে শিশু, ২০২৩ সালে ১০৪ জন শিশু পাচার হয়েছিল। ২০২৪ সালে গৃহশ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১০ জন নারী শিশুর সঙ্গে, ২০২৩ সালে ২৬ জন মেয়ে শিশু এ অভিজ্ঞতায় পড়েছিল।