Published : 01 May 2026, 07:30 PM
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির, তা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পরিবারের বরাতে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস বলেছে, “আজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ভাইকে ফ্লোরিডার পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ফোন করে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় মরদেহটি বৃষ্টির।
“বৃষ্টির পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস, মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করছে।”
এদিকে বৃষ্টির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের জানাজা হয়েছে বৃহস্পতিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে ট্যাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে তার জানাজা হয় বলে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
লিমন ও বৃষ্টি দুজনেই ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডির শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজন লিমনের জানাজায় অংশ নেন।
মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এবং লিমনের খালাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
লিমনের মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানোরও প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, লিমনের কফিন নিয়ে ২ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে অরল্যান্ডো (এমসিও) থেকে রওনা হবে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। দুবাইয়ে ট্রানজিট হয়ে ৪ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় শাহজালাল বিমান বন্দরে পৌঁছাবে তার মরদেহ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
১৬ এপ্রিল সকাল থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের ফোন বন্ধ পেয়ে এবং কোনোভাবে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
পরে গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর পুলিশ বৃষ্টির পরিবারকে ফোনে জানায়, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।
লিমনের লাশ উদ্ধারের পর ওইদিনই তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি চলাকালে স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। পরীক্ষার পর শুক্রবার পরিবারকে জানানো হয়, ওই দেহাবশেষ বৃষ্টির।
লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ বাংলাদেশ থেকে ফ্লোরিডার একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লিমন ও বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক সাড়ে চার বছরের। তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকেও দ্বিমত ছিল না। তবে উচ্চ শিক্ষা শেষ করেই তারা বিয়ের কাজটি সারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা।