Published : 01 Apr 2026, 09:29 PM
চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে দিনভর উত্তাপের পর রাতে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে; কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।
বুধবার রাত ৮টা নাগাদ বৃষ্টি শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা চলে। এরপর খানিকক্ষণ থেমে আবারও বৃষ্টি শুরু হয়।
বৃষ্টিতে বাইরে আটকা পড়েন শ্রমজীবী, চাকুরে, পথচারীসহ অনেকে। বৃষ্টির ছাঁট থেকে বাঁচতে সড়কের পাশে দোকানপাট আর ভবনে আশ্রয় নেন কেউ-কেউ।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মৌসুমের এই সময়ে সাধারণত শিলাবৃষ্টি হয়। ক্লাউড বেসের নিচের অংশ যদি একটু নিচে নেমে আসে, আমরা বলি ১৪ হাজার ফিট বা তার নিচে নেমে আসে, তখন এরকম শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।”
বিষয়টি ব্যখ্যা করে তিনি বলেন, “জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাস যখন উপরের দিকে যায়, তখন সে ঠান্ডা হয়। এক সময় এই মেঘমালা হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা অর্থাৎ -৫০, -৬০, -৭০, -৮০ এরকম তাপমাত্রায় চলে যায়। মেঘমালার উপরের অংশ হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় থাকে; এর মধ্যে যে জলকণা থাকে, বৃষ্টির কণা থাকে, পানির কণা থাকে এগুলো মিলে আইস ক্রিস্টাল তৈরি হয় তখন। কারণ শূন্য ডিগ্রি হলেই তো ঘনীভূত হয়ে বরফ হতে পারে।
“এরকম হিমাঙ্কের নিচে মেঘমালা যখন চলে যায়, তখন মেঘমালার মধ্যে যে অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিলাকণা অথবা আইস ক্রিস্টাল তৈরি হয়, সেগুলো পরস্পরের সঙ্গে অনেক সময় লেগে যায়। লেগে এই সাইজটা একটু বড় হতে থাকে। এই বড় কণা আরও ছোট কণার সঙ্গে মিশতে পারে, তখন সাইজটা আরেকটু বড় হয়। তো বড় হলে সে আর বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না, তখন নিচের দিকে ধাবিত হয়। যখন ধাবিত হয় তখন এই ধরনের শিলাবৃষ্টি হয়।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুধবার রাতের বুলেটিনে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এই সময়ে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে; ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নিলফামারীর ডিমলা ও নেত্রকোণায়; ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে; ৩৮ মিলিমিটার। এছাড়া, টাঙ্গাইলে ৩৫, নেত্রকোণায় ৩২, রংপুরে ১৪ ও সিলেটে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।