১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বেতনের হিসাব আদালতে দিতেই হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার এমডিকে

হাই কোর্টের আদেশ আটকাতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গিয়ে সাড়া পায়নি ওয়াসা বোর্ড।

বেতনের হিসাব আদালতে দিতেই হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার এমডিকে

তাকসিম এ খান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Oct 2022, 01:50 PM

Updated : 11 Oct 2022, 02:27 PM

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান গত ১৩ বছর ধরে বেতন-ভাতা বাবদ কত টাকা নিয়েছেন, সেই হিসাব দাখিল করতে হাই কোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারক।

হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ওয়াসা বোর্ডের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন মঙ্গলবার কোনো আদশ দেননি (নো অর্ডার) বলে জানিয়েছেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।

গত ১৭ অগাস্ট ক্যাবের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকা ওয়াসার এমডিকে গত ১৩ বছর ধরে বেতন-ভাতা বাবদ কত টাকা নিয়েছেন তার হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেয় বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ।

আদেশে ৬০ দিনের মধ্যে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডকে এই হিসাব দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই সাথে তাকসিম এ খানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাকে অপসারণে বিবাদীদের ‘নিষ্ক্রীয়তা’ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাই কোর্ট।

যতদিন পর্যন্ত তাকে অপসারণ করা না হবে, ততদিন ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে।

আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওয়াসা বোর্ডের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম মাসুম। ক্যাবের পক্ষে আদালতের অনুমতি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে (ইন পারসন) শুনানি করেন ক্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম শামসুল আলম।

গতবছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ২৭৬তম সভায় কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে এমডির বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয় ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এর মধ্যে তার মূল বেতন ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া ৩৫ হাজার, চিকিৎসা ও আপ্যায়ন ভাতা ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকা, বিশেষ ভাতা ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৬ টাকা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা ৪ হাজার ৭৬৭ টাকা। তার উৎসব ভাতা ঠিক হয় ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা।

এ খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হলে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে গত ২০ মার্চ বিবাদীদের উকিল নোটিস দেয় ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। নোটিসের জবাব না পাওয়ায় গত ৩১ জুলাই হাই কোর্টে রিট করা হয়।

এদিকে দেশের ব্যাংকগুলোতে তাকসিম এ খানের কত টাকা আছে, কী পরিমাণ লেনদেন হয়েছে, সেসব তথ্য জানতে চেয়ে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ- বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পেয়েছিলেন তাকসিম এ খান। এরপর চার দফায় বাড়ানো মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর। তার সপ্তাহ দুয়েক আগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাকসিমের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ায় সরকার।

আরও পড়ুন:

পুরানো খবর:

ঢাকা ওয়াসার এমডি ১৩ বছরে কত বেতন নিয়েছেন, জানতে চায় হাই কোর্ট
ঢাকা ওয়াসার এমডির ৬ লাখ টাকা বেতন নিয়ে প্রশ্ন ক্যাবের
ফের যুক্তরাষ্ট্র থেকে অফিস করতে চান ওয়াসার এমডি
ওয়াসার তাকসিমের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় বিএফআইইউ