Published : 03 Sep 2025, 05:05 PM
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ—এনটিআরসিএর হাতে দেওয়ার চিন্তা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রধান ও সহকারী প্রধানের এসব পদের নিয়োগ এনটিআরসিএর হাতে দেওয়ার বিষয়ে বিধিবিধান পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন মাধ্যমিক শাখার (বেসরকারি) উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী।
প্রচলিত নিয়মে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি লেভেলে সহকারী শিক্ষক বা প্রভাষক পদের নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে হলেও প্রধান ও সহকারী প্রধান পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে। সরকারি প্রতিনিধির সম্পৃক্ততা থাকলেও প্রধান ও সহকারী প্রধান পদগুলোর নিয়োগে অনিয়ম, রাজনৈতিক বিবেচনা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শিক্ষকরা এ প্রশাসনিক পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া বদলে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানাচ্ছিলেন। এমন বাস্তবতায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য প্রশাসনিক পদের নিয়োগ এনটিআরসিএর হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী বুধবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটি সভায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদের নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
“ওই কমিটি বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক পদের নিয়োগের বিদ্যমান বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে এসব পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এনটিআরসিএর মাধ্যমে চালানো যায় কিনা, সে বিষয়ে সুপরিশ করবে। তাদের সুপরিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিগুলো পুরোপুরি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতে ছিল। কারণ স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে সভাপতি মনোনয়নের বিধান ছিল। সে অবস্থান থেকে সরে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি পদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
“কিন্তু আগের রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে যারা অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন তাদের নিয়োগ রাজনৈতিক বিবেচনায়, অনিয়ম করে এমনকি স্বজনপ্রীতি করেও সম্পন্ন হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। আমার মনে হয় এ পদগুলোর নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে হওয়ার উচিত। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া যাবে।”