Published : 25 Apr 2026, 02:12 PM
ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে গেলেই ‘গুপ্ত’ বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু ‘অস্তিত্বহীন’ ও ‘বট আইডি’ থেকে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভালো কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের রেনেসাঁ হোটেলে শনিবার সকালে ‘ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় শফিকুল কথা বলছিলেন।
ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে বাধা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়টি তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, “মাত্র ২ শতাংশ ফুটপাত দখলকারী বা অবৈধ ব্যবসায়ীর জন্য আমার ৯৮ শতাংশ জনগণের দুর্ভোগ হচ্ছে। যখন এই ৯৮ শতাংশ মানুষ আমার ভালো কাজকে অ্যাপ্রিশিয়েট করছে, ঠিক তখনই কিছু নেগেটিভ প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, এগুলো ডিমান্ড বাড়ানোর জন্য হুমকি, আবার ওরাই পরে বসাবে।”
এই অপপ্রচারের উৎস সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আইডি ঘেঁটে দেখা যায় সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। এগুলো বটের মতো, ভুয়া এবং মিথ্যা। কেউ প্রকাশ্যে এসে কথা বলছে না, সবাই গুপ্ত হয়ে থাকছে। প্রকাশ্যে সত্যি কথা না বলে যখন কেউ গুপ্ত হয়ে থাকে, তখন সে কী কাজ করছে তা খুঁজে বের করা সম্ভব না।”
জনগণের চলাচলের স্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান চলবে বলেও জানিয়েছেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ৬টি স্থানে পাইলট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হকারদের নিবন্ধন নম্বর, কিউআর কোড ও আইডি কার্ড দেওয়া হবে। তাদের জন্য স্থায়ী দোকানের বদলে ট্রলিভিত্তিক বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে।
সাময়িক সমস্যা সমাধানের বদলে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করার কথা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তা কাটাকাটি ঠেকাতে সিটি করপোরেশনের কাজ শুরুর আগে ওয়াসা, তিতাস, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হবে। একই সময়ে সমন্বিতভাবে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সংস্থার সেবা সংকটের দায় সিটি করপোরেশনের ওপর চাপানো হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মশা নিয়ন্ত্রণে বর্তমান ফগিং কার্যক্রমের সীমিত কার্যকারিতার কথা স্বীকার করে প্রশাসক জানিয়েছেন, নতুন ওষুধ এনে পরীক্ষার পর পর্যায়ক্রমে তা ব্যবহার করা হবে।
এছাড়া ঢাকার ২৯টি খালের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৯টি পরিষ্কার করা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল সতর্ক করে বলেন, খালে আবর্জনা ফেলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হবে।
পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় হর্ন বন্ধে বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনা এবং হর্নবিহীন গাড়ি আমদানির প্রস্তাব তুলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নগর সেবাগুলোকে এক ছাতার নিচে আনা গেলে সমন্বয়হীনতা কমবে এবং সেবার মান বাড়বে।
রাজধানীর যানজট নিরসনে পার্কিং স্পেস উদ্ধার, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি এবং পূর্বাচল প্রকল্পকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিয়াজুল।
ঢাকা ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণাধীন থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীর অধিকাংশ সুবিধা গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত ৫ শতাংশ মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ, অথচ কড়াইল বস্তির মতো এলাকায় সেই সুবিধা পৌঁছায়নি।