১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্যা: পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2024, 11:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:18 AM

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ অঞ্চলের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে সরকার।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছুটি বাতিল রাখার কথা বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বন্যার পরিস্থিতিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কন্ট্রোল রুমও খুলেছে। দুর্গতদের প্রয়োজনে ০১৩৩ ১৮২৩৪ ৯৬২, ০১৭৬৫ ৪০৫৫৭৬, ০১৫৫ ৯৭২৮১৫৮, ০১৬৭৪৩৫৬২০৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ফেনীতে তৃতীয় দফার বন্যায় জেলার ফুলগাজী-পরশুরাম-ছাগলনাইয়া উপজেলায় দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ইমিগ্রেশন ভবনে হাঁটুপানি জমায় যাত্রী পারাপার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মাইনি ও কাচালং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ডুবে গেছে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক অংশ।

বুধবার সকাল ৯টায় দেশের ৭টি নদীর পানি ৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছিল।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি কিছু পয়েন্টে সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এছাড়া পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস রয়েছে। এ সময়ে এসব অঞ্চলের মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও গোমতী নদীর পানি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

তবে এ বন্যা পরিস্থিতি আগামী তিনদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

চলতি বছর বর্ষার শুরুতে জুনের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের অভ্যন্তরে ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চল। ঈদের উৎসবের আগে ও পরে দুই সপ্তাহ ধরে দুর্ভোগে থাকেন সিলেট, সুনামগঞ্জসহ আশপাশের জেলার বাসিন্দারা। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলেও পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়।

উজানের ঢলে জুলাইয়ের শুরুতেও দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। এর ফলে প্লাবিত হয় অনেক গ্রাম।

আরও পড়ুন-

একদিন পর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আশা

বন্যাফেনীতে ২০০ গ্রাম প্লাবিতপ্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি

জলাবদ্ধতায় আখাউড়া স্থলবন্দরে যাত্রী পারাপার বন্ধআমদানি-রপ্তানি

খাগড়াছড়িতে বন্যাডুবে আছে ৩০ গ্রামসাজেকে আটকা আড়াইশ পর্যটক