Published : 30 Jun 2025, 01:22 PM
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শাওন ওরফে শাওন মুফতি হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম পার্থ ভদ্র।
লোকসঙ্গীতের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজকে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশ পাহারায় কাঠগড়ায় তোলা হয়।
এসময় তার মাথায় হেলমেট ছিল। ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। মুখে ছিল মাস্ক। পরে কাঠগড়ায় তুলে মমতাজের হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দেয় পুলিশ সদস্যরা। কাঠগড়ায় দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে অনেকটা লুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। পাশে নারী পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।
১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাসে ওঠেন। প্রথমে কোতোয়ালী থানার হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমের গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। তখন মাস্ক খুলে কাঠগড়ার সামনে দাঁড়ান মমতাজ বেগম।
শুনানি শেষে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়৷ এরপর তিনি কাঠগড়ায় পেছনে গিয়ে দাঁড়ান। তখন কাঠগড়ায় থাকা সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনেরর সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।
সাবিনাকে হাসিমুখে দেখা গেলেও নিশ্চুপ ছিলেন কণ্ঠশিল্পী। পরে পেছনে দাঁড়িয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি মমতাজ। গরমে ঘামতে থাকায় টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে থাকেন। এক পর্যায়ে ১১টা ৫ মিনিটে নিজের মাস্ক খুলে ফেলেন। দুই মিনিট বাদে মুখে ফের মাস্ক দেন। এরপর ১১টা ১১ মিনিটে তাকে জ্যাকেট ও হেলমেট পরানো হয়। কিছুক্ষণ বাদে পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৫ অগাস্ট রাতে আন্দোলনকারী শাওন মুফতি তাঁতীবাজার মোড়ের ‘ফুলকলি’ দোকানের সামনে বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। এরপর গভীররাতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় তার মা মাকসুদা বেগম গত ২৮ মে রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অচেনা ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
গত ১২ মে রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর একাধিক মামলায় তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।