Published : 09 Oct 2025, 05:32 PM
গাজা অভিমুখে রওনা হওয়া ত্রাণবাহী ফ্রিডম ফ্লোটিলা থেকে আটক হওয়া শহিদুল আলমসহ অন্যান্য অধিকারকর্মীর মুক্তির দাবিতে শতাধিক ব্যক্তির সংহতি জানানোর তথ্য দিয়েছে ‘দৃক’।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এসব ব্যক্তির মধ্যে লেখক অরুন্ধতী রায়, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক ও নাট্যকার মাইক ভ্যান গ্রানও রয়েছেন।
দৃকের বার্তায় বলা হয়, বিবৃতিতে শহিদুল আলমের বন্ধু ও পরিবারবর্গ, যাদের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আরও ডজনখানেক বিশিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন, যারা তার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও কর্মী শহিদুল আলমের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি, পাশাপাশি কনশানস জাহাজে থাকা আরও ৯১ জন গণমাধ্যমকর্মী ও চিকিৎসা সহায়তাকারী এবং বিচার ছাড়াই ইসরায়েলি কারাগারে আটক হাজারো ফিলিস্তিনির মুক্তি দাবি করছি।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েলি অবৈধ দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, যার ফলে আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সংবাদ শূন্যতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সময়কালে শত শত ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে, আরও অনেককে কারারুদ্ধ বা নীরব করা হয়েছে। এই নৌযাত্রা সেই নীরবতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই।”
দৃকের তুলে ধরা বিবৃতিতে কানাডিয়ান বোট টু গাজা ও ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ডেভিড হিপের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, “ইসরায়েলের কোনো আইনগত কর্তৃত্ব নেই এই জাহাজগুলোতে থাকা আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবীদের আটক করার। এই আটক সম্পূর্ণরূপে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বাধ্যতামূলক নির্দেশনাকে অমান্য করে, যেখানে গাজায় মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।
“আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা ইসরায়েলি আইনের আওতায় পড়ে না এবং তারা অবৈধ অবরোধের বিরুদ্ধে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য অপরাধী হতে পারে না। তাদের আটক করা হচ্ছে অবৈধ, ইচ্ছাকৃত ও অগ্রহণযোগ্য।”
এসব বক্তব্য তুলে ধরে দৃক বলছে, ইসরায়েল সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা গাজায় মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বাধ্যতামূলক আদেশ অমান্য করেছে। বেসামরিক নৌযান চলাচল রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করেছে এবং অবরোধ ও গণহত্যা বন্ধের বৈশ্বিক আহ্বান উপেক্ষা করছে।
ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন এবং থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজার দাবিও তুলে ধরে দৃক।
তাদের দাবিতে বলা হয়-
● গাজার ওপর ইসরায়েলের অবৈধ ও প্রাণঘাতী অবরোধের অবসান ঘটাতে হবে;
● গাজার গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে;
● অপহৃত সকল স্বেচ্ছাসেবীর মুক্তি দিতে হবে;
● ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণমুক্তভাবে সরাসরি ফিলিস্তিনিদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে;
● আমাদের নৌবহরে সামরিক হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
এ সময় দৃক দাবি করে, ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের আয়োজকদের সাম্প্রতিক আপডেটে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে জাহাজ আটকানোর সময় কিছু স্বেচ্ছাসেবীর ওপর সহিংসতা চালানো হয়েছে এবং তাদের কেৎজিয়েত কারাগারে পাঠান হচ্ছে।
এর মধ্যে শহিদুল আলম আছেন কিনা, তা জানার চেষ্টা চলছে।
এর আগে তার আটকের যে ছবি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বানানো বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।
দৃক জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি সময় বুধবার সকাল ৬টার সময় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা) গাজা থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইল (২২০ কিলোমিটার) দূরে ফ্রিডম ফ্লোটিলার জাহাজ ‘কনশানস’সহ মোট ৮টি জাহাজকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ‘সহিংসভাবে দখল করে’ নেয় ইসরায়েলের বাহিনী।
এর আগে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নৌবহরের ৪০টির বেশি ত্রাণবাহী নৌযান ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজায় ঢোকার চেষ্টা করেছিল। ইসরায়েলি সেনারা সেগুলো দখল করে নেয় এবং জাহাজগুলোতে থাকা চার শতাধিক অধিকারকর্মীকে আটক করে।
এরপর আরও ১১টি জাহাজের আরেকটি নৌবহর ১ অক্টোবর গাজা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে, যার আয়োজক আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) এবং থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা (টিএমটিজি)।