Published : 30 Mar 2026, 04:01 PM
পেশাদার খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “খেলোয়াড় বন্ধুরা, আপনাদের সকলের প্রতি আমার একান্ত আহ্বান, একান্ত অনুরোধ, পেশাদার খেলোয়াড়ী জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন; বা হবেন না দয়া করে।
“বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন আপনারা। দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসছেন, গৌরব নিয়ে আসছেন আপনারা। দেশে বিদেশে বিজয়মালা বরণ করে বিশ্বে, ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে আপনারা প্রতিষ্ঠিত করবেন ইনশাল্লাহ।”
সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্য দেওয়ার আগে তিনি ল্যাপটপের বাটন টেপার সঙ্গে সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়।
এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা দেন।
তিনি বলেন, “এই কথাটা একটু সিরিয়াস, তবে এই কথাটা আমি মিন করি, বিশ্বাস করি এবং সেই জন্য বলতে চাই। দেশপ্রেম ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।”
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পেশাদার খেলায়াড় গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানটি ব্যতিক্রমী। আমরা আজকে এমন কিছু মানুষকে এখানে একত্রিত করেছি, যারা সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক। কিন্তু এই মানুষগুলো দেশের জন্য বিরাট সুনাম বয়ে নিয়ে এসেছে এবং এই সুনামটি তারা বয়ে নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজ যোগ্যতায়।
“আজকে এখানে যারা জয়ী হয়ে এসেছেন, বিভিন্ন ইভেন্টে যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেরই কিন্তু বিজয়ী হওয়ার জন্য একটি প্রতিপক্ষ ছিল এবং প্রতিপক্ষ ছিল বলেই কিন্তু তারা যখন বিজয়ী হয়েছে সেই বিজয়ের আনন্দটা তারা উপভোগ করতে পেরেছে। তারা শুধু একা কিন্তু এই আনন্দটি উপভোগ করেনি, যখন তারা বিজয়ী হয়েছে, তারা সমগ্র জাতিকে সাথে নিয়ে এই আনন্দটা করেছে।”
তারেক রহমান বলেন, “খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয় বরং এটি অর্থ হচ্ছে জয়ের একটি অংশ। আপনি আজকে পরাজিত হয়েছেন মনে ইনশাল্লাহ আপনি আগামী দিন বিজয়ী হয়েছেন।

“আইনস্টাইন একটা কথা বলেছিলেন। যতটুকু আমার মনে আছে, কথাটা ছিল এরকম– যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে আসলে কিছুই করেনি। আপনাকে জয়ী হতে হলে কিছু করতে হবে। কথাটার অর্থ হচ্ছে সেটাই।”
পুরস্কারপ্রাপ্তদের পাশাপাশি খেলোয়াড়, কোচসহ কর্মকর্তাদেরও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
‘ক্রীড়া এখন একটি পেশা’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিসাবরক্ষণ, প্রকৌশল, আইনি সেবার মত ক্রীড়াও এখন একটি পেশা।
“পৃথিবী যখন এভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, নিশ্চয় বাংলাদেশেও পিছিয়ে থাকতে পারে না। আমরা ইনশল্লাহ পিছিয়ে থাকব না।”
এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বলেছিলাম, আমাদের দল রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা দেশের ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমরা যে প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছিলাম, দেশের মানুষকে দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতির কাজটি আমরা ধীরে ধীরে শুরু করছি আজকের এই অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে।”
খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, তিনি যাতে খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সেজন্যই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল শ্রেণি পেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।
আগামী ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “এভাবেই দেশ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হল 'ক্রীড়া কার্ড' ।”
তিনি বলেন, “শারীরিক প্রতিবন্ধী যারা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম তারাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’–এই প্রতিপাদ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও দেশে বিদেশে সব ধরনের সুবিধা দিতে সার্বিক উদ্যোগ নিয়েছে।”
'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'
পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলেমেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায়, সেজন্য শিক্ষা কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখার পাশাপাশি ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলাতেও আগ্রহী এবং পারদর্শী হয়ে উঠবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে।”
দেশব্যাপী নতুন পরিসরে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল।
“বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ শে এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'।