Published : 14 Apr 2026, 01:41 PM
নতুন বাংলা বছরের প্রথম সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ যে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র আয়োজন করেছে, সেখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ গতবারের তুলনায় কমেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল ও ম্রোসহ দশ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
শোভাযাত্রায় দেখা যায়, কেনো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধির সংখ্যাই ১০-১৫ জনের বেশি নয়।
গতবছর এ শোভযাত্রার নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। তাতে অংশ নিয়েছিল ২৮ আদিবাসী জনগোষ্ঠী। প্রতিটি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও ছিল এবারের চেয়ে বেশি।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র আয়োজক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার আমরা গতবারের তুলনায় সময় কম পেয়েছি। পাশাপাশি নাম নিয়ে একটা বিতর্ক ছিল। এরপর নতুন সরকার… সব মিলিয়ে এবার একটু ব্রেক ডাউন হয়েছে।
“গতবার আমাদের আয়োজন কেমন হয়েছে, আপনারা জানেন। এবার সময় স্বল্পতার কারণে একটু ঘাটতি হয়েছে।”
এবারের শোভাযাত্রায় বাদক দলের সংখ্যাও কমেছে। তাতে শোভাযাত্রা কিছুটা ‘নিষ্প্রাণ’ মনে হয়েছে কারো কারো কাছে।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী উৎপল রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের এবার একটা ব্যান্ড পার্টি পারফর্ম করেছে। আয়োজনে কিছুটা টানাপড়েন আছে সেটা বোঝা যাচ্ছে।”
হাজারীবাগ থেকে আসা মিনা গোপ বলেন, “আমি প্রতিবছর আসি শোভাযাত্রায়। অন্তত দুই দশক ধরে এই শোভাযাত্রায় অংশ নিই। তবে এবার আয়োজনটা কেমন জানি নিষ্প্রাণ। সামনে একটা ব্যান্ড ঢোল বাজাচ্ছে। পেছনে কেউ শুনতেই পাচ্ছে না। মনে হচ্ছে রাস্তায় হাঁটতে বের হয়েছি।”
নেত্রকোণা থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসা রাজীব হায়দার বলেন, “ এবার একটু কম জমজমাট হয়েছে। তবে ভালো লাগছে। বৈশাখ তো প্রতিবছর একবারেরই আসে। স্বল্পতা-ঘাটতির মধ্যেও আনন্দ করে নিতে হবে।”

গতবারের শোভাযাত্রায় তিনটি বাদক দল অংশ নিয়েছিল। এবার সংখ্যা কমার কারণ জানতে চাইলে চারুকলা অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, “এবার একটু ব্রেক ডাউন হয়েছে। তারপরও ৫০ জনের একটা ব্যান্ড দল তো আছে।”
প্ল্যাকার্ডে প্ল্যাকার্ডে বার্তা
প্রতিবছরের মত এবারের শোভাযাত্রাতেও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরা হয়েছে সমাজের নানা অসংগতির চিত্র।
‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু বলাৎকারের বিরুদ্ধে সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলো’, ‘বাঁচাও সুন্দরবন’, ‘ফসলের লাভজনক মূল্য দাও’, ‘বমদের মুক্তি দাও’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘গণহত্যাকারীদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান কর’, ‘মুক্ত কর ভয়’ ও ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল কর’ সহ নানা স্লোগান তুলে ধরেন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সমাজে এখন শিশু বলাৎকার একটা ব্যাধির আকার ধারণ করেছে। এটা যদি এভাবে চলতে থাকে, এ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। আজ বছরের প্রথম দিনে আমরা বার্তা দিতে চাই, শিশুদের নিপীড়নের অবসান হোক।”
বমদের মুক্তির দাবিতে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরা একজন বলেন, “এ শোভাযাত্রা বলছে গণতন্ত্র পুনরুত্থানের কথা। সেখানে কেন একটা গণতান্ত্রিক দেশে বম নারীদের শিশুসহ আটক রাখা হবে। আজ ৬০০ দিনের অধিক সময় পার হয়ে গেছে এ মানুষগুলো কারাগারে। আমরা তাদের মুক্তি চাই। তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত হোক, সেই প্রত্যাশা করি।”

বৈশাখী আয়োজনে রঙিন ক্যাম্পাস
নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নানা আয়োজনে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বৈশাখী সাজে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বর্ষবরণের উৎসব হয়ে উঠেছে আরও প্রাণবন্ত।
কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বা বন্ধুদের সঙ্গে উৎসবে যোগ দিয়েছেন। মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাসের প্রতিটি অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে বিভিন্ন জেলার সংগঠনসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘পান্তা-ইলিশ’ এর আয়োজন করেছেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি, ভিসি চত্বর, কার্জন হলে আনন্দ আড্ডায় নানা নববর্ষকে বরণ করে নিচ্ছে মানুষ।