Published : 24 Jul 2026, 01:40 AM
একজন প্রবাসী সাংবাদিকের একটি ফেইসবুক পোস্টের সূত্র ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন বলে যে গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা সত্যি হতে চলেছে বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে বঙ্গভবন সংশ্লিষ্টদের কথায়।
তবে বৃহস্পতিবার বঙ্গভবন থেকে তার পদত্যাগের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। স্পিকার দেশের বাইরে থাকায় তাকে ডেকে আনা হচ্ছে। তিনি শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাবেন, এরপর বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এরপর কী হবে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে দলের অনাস্থার মুখে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের নজির রয়েছে। সে সময় যেভাবে স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেছিলেন, এবারও কী তা-ই হবে?
অর্থাৎ নতুন রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালন করবেন?
বিশেষজ্ঞ মতে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য হবে, তবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও সংসদবিষয়ক গবেষক নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কার্যভার না নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে পদত্যাগের কারণে দায়িত্ব পালনে কোনো বিরতি তৈরি হবে না।”
বুধবার হঠাৎ করেই প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়।
সায়ের ফেইসবুকে লেখেন, “আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।”
রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার ঘনিষ্ঠ একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডে গেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সূচি অনুযায়ী তার ২৬ তারিখ ফেরার কথা। তবে তার আগেই তিনি ফিরতে পারেন বলে আভাস পেয়েছেন তার দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "পদত্যাগপত্রে এখনো তিনি স্বাক্ষর করেননি। পদত্যগ করলে জানানো হবে।"

তবে বঙ্গভবনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, স্পিকার দেশে না থাকায় চাইলেও এখনই পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারছেন না রাষ্ট্রপতি।
“পদত্যাগটা যার কাছে করবেন তিনি নিজেও দেশে নাই। সুতরাং এখন পদত্যাগের সুযোগও নেই। কত লোক কত কিছু বলবে সেটা ধরে থাকলে তো আর চলবে না।”
তবে রাষ্ট্রপতি ‘পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’ জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, “তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা স্বাস্থ্যগত কারণেই হোক, আর মানসিক কারণেই হোক।”
রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একজনও স্পিকারের দেশে না থাকার বিষয়টি সামনে আনলেন। তিনি বলেন, “মহামান্য তার কর্মকর্তাদের বলেছেন, দুয়েক দিনের মধ্যে তিনি বঙ্গভবনের পাট চুকিয়ে ফেলতে পারেন। স্পিকার ফিরলেই সেটা হতে পারে।”

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কীভাবে?
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন।
পদত্যাগের কারণ দেখানো, স্পিকারের সম্মতি নেওয়া কিংবা সংসদের অনুমোদনের কোনো শর্ত এ অনুচ্ছেদে নেই। পত্রটি স্পিকারকে সশরীরে গ্রহণ করতে হবে, এমন কথাও সংবিধানে বলা হয়নি।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর কী হবে, তা বলা হয়েছে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে। সেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালন করবেন।
এ সময় স্পিকার নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হয়ে যান না। তিনি সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক কার্যাবলি পালন করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি কার্যভার নিলে স্পিকারের এই দায়িত্ব শেষ হবে।

কতদিনের মধ্যে নির্বাচন?
মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।
এক সময় তিনি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, তখন দেশের মানুষ তাকে সাহাবুদ্দিন চুপপু নামে চিনত।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এর বাইরে পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। এটি সর্বোচ্চ সময়সীমা; তার আগেও নির্বাচন হতে পারে।
সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ বলছে, আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।
ফলে কোনো দল উত্তরসূরি হিসেবে কারও নাম ঠিক করলেই তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে যাবেন না। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচিত হতে হবে।
সংবিধানের ১১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে এই নির্বাচন পরিচালনা করেন। নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।
তফসিলে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ থাকবে। ভোট হবে সংসদ কক্ষে। সংসদের অধিবেশন না থাকলেও স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করতে পারে নির্বাচন কমিশন।

কারা ভোট করতে পারবেন?
রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীকে অন্তত ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে আগে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।
প্রার্থীকে বর্তমান সংসদ সদস্য হতে হবে না। তবে তার মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে।
বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোট নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন নয়, প্রকাশ্য। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি ভোট থাকে। ভোটার ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে স্বাক্ষর করে সেটি সংগ্রহ করেন। এরপর যাকে ভোট দেবেন, তার নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করেন।
সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন। দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও দলটির সিদ্ধান্তই নির্ধারক হবে। দলীয় ভোট অটুট থাকলে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। আর অন্য কোনো বৈধ প্রার্থী না থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে শপথ নিয়ে কার্যভার গ্রহণ করবেন। সংবিধানের ৫০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব নেবেন না। কার্যভার গ্রহণের দিন থেকে তার নতুন পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হবে।
নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ঘোষণাতেই শেষ হয়ে যায় না। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ রয়েছে।”

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই একমাত্র ভোটাভুটি হয়েছিল। বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
এরপর প্রতিটি নির্বাচনে একজন বৈধ প্রার্থী থাকায় আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
নব্বইয়ের পর বিএনপির আমলে পদত্যাগের নজির
দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা চলে যান ভারতে।
হাসিনা আমলের কোনো কিছু অবশিষ্ট না থাকলেও অনিবার্য পরিণতির মত বঙ্গভবনে থেকে যান মো. সাহাবুদ্দিন। তাকেই সংসদ বিলুপ্ত করার আদেশ দিতে হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়াতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে অধ্যাদেশে পরিণত করতে তাকেই সই দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয়েছে।
অভ্যুত্থানের পক্ষের কয়েকটি সংগঠন গত অক্টোবরে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে তুমুল আন্দোলনও শুরু করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরির আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল।
শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার আর সে পথে যায়নি। তবে সব মিলিয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটছিল রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে থাকা সাহাবুদ্দিনের।
নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।”
সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে সরাসরি যোগাযোগ করে কখন পদত্যাগ করতে চান জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “নতুন সরকার আসলে… নতুন সরকার বললে, অনুরোধ করলে।”
কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন, সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, “আমার ভালো লাগে না।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন।
এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।”
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গত মে মাসে লন্ডনে ঘুরে আসেন রাষ্ট্রপতি। পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন।


২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেই অস্ত্রোপচারের ফলোআপ পরীক্ষা করাতেই তিনি যুক্তরাজ্যে যান।
১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়।
এরপর তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। নয় দিন পর দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি। তখন বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে তার শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ ও নথিতে ডিজিটালি অনুমোদন দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। লন্ডনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিসের সঙ্গে তার অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতও হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিত করার রেওয়াজ রয়েছে। তবে তারেক রহমান বুধবার পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন, এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি।
এ কারণে অনেকেই বলছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
নব্বইয়ে সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরার পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের নজির রয়েছে, সেটিও বিএনপি সরকারের আমলে।
বিএনপির সংসদীয় দলের অনাস্থার মুখে ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তখনকার স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার ওই দিন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার নেন।