Published : 28 Jan 2026, 05:19 PM
প্রায় ১১ বছর আগে ঢাকার জুরাইনে মুক্তিপণের জন্য শিশু আরিফ হাসানকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তার চাচাতো ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর বুধবার এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় মামলার আসামি মো. সম্রাট আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী এ তথ্য দিয়ে বলেছেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে সম্রাটকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছয় বছর বয়সী আরিফ প্রতিদিনের মতো নামাজ পড়তে বাসা থেকে বের হয়। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।
এরপর রাত ৯টার দিকে ফোন করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে এক ব্যক্তি। না দিলে আরিফকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকে ফোন নম্বরটি বন্ধ পায় আরিফের পরিবার। পরদিন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সম্রাট এবং তার সহযোগী এক শিশুর আচরণে সন্দেহ হয় আরিফের পরিবারের।
দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অপহরণের পর আরিফকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তারা জানায়, আরিফ নামাজ শেষে জুরাইন মেডিক্যাল খানকা শরিফ মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর রাস্তায় এলে তারা তাকে অপহরণ করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের বিষয়টি আরিফ প্রকাশ করে দেবে, এ ভয়ে তারা তাকে হত্যা করে।
আরিফ হত্যার ঘটনায় তার বাবা ১৬ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ওই থানার এসআই এনায়েত করিম ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর সম্রাট ও তার সহযোগী শিশুকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরের বছরের ১১ এপ্রিল দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেয় আদালত।
সম্রাটের কারাদণ্ডের রায় এলেও তার সহযোগী সেই শিশুর বিচার চলছে শিশু আদালতে চলছে।