Published : 27 Mar 2026, 11:09 PM
জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকিতে দেশের সব জেলায় যে ‘ভিজিলেন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে, তাদের মাধ্যমে অবৈধ মজুদদারির তথ্য সংগ্রহে নামছে সরকার।
তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
শুক্রবার রাতে এক বার্তায় জ্বালানি বিভাগ বলেছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকিতে সকল জেলায় ‘ভিজিলেন্স টিম’ গঠন করেছে সরকার। অবৈধ মজুদদারি বন্ধে তথ্য প্রদানকারীর জন্য আসছে পুরস্কারের ঘোষণা। সচেতন নাগরিকগণকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করা হল।”
এর আগে এদিন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবৈধ তেলের কারবার ঠেকাতে জেলায় জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠনের কথা জানানো হয়।
সেই বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযানে আনুমানিক ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধারের তথ্যও দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কমিশনার ঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম সুব্রত হালদার।

অভিযানে ৩০টি ড্রামে অবৈধভাবে মজুদ করা আনুমানিক ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন।
তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা তেল পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে মন্ত্রণালয় জানায়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রশাসন জানতে পেরেছে, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে তেল অপসারণ করে বিভিন্ন স্থানীয় বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করে থাকে।
জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদ ঠেকাতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। বর্তমানে তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেল কারবারিদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলার জন্য পৃথক ‘ভিজিলেন্স টিম’ ও যোগাযোগ নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। অধিকাংশ জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এডিএম, এসব টিমের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। কয়েকটি জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সাধারণ, এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, এলএ, দায়িত্ব পালন করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি তেল সংকটের যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিল। পরে চাপ না কমায় সেই রেশনিং প্রত্যাহার করা হয়। এরপরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল কেনার চাপ কমেনি। কোথাও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ মিলছে না, কোথাও পাম্প বন্ধ থাকছে, আবার কোথাও সীমিত বিক্রি চলছে।
এ অবস্থায় জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে প্রতিদিন সমন্বয় করে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি তেল বিপণনের তিন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে প্রতিদিন সকালে অনলাইনে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করছে জ্বালানি বিভাগ।
বুধবার থেকে এ বৈঠকে জেলা প্রশাসকদেরও যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে মাঠপর্যায়ের ঘাটতি দ্রুত ধরা যায়।
একই সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কিউআর কোড, ব্যানার, স্কুলভিত্তিক প্রচার, উপাসনালয়ে বার্তা এবং লিফলেট বিতরণের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।