Published : 12 Dec 2025, 11:00 PM
পাখি শিকারের বিরুদ্ধে ‘ফটোওয়াক ও পাখি পর্যবেক্ষণ’ কর্মসূচি পালন করেছেন আলোকচিত্রী ও পরিবেশবাদীরা।
শুক্রবার সকাল ৯টায় ঢাকার কলাতিয়া সংলগ্ন নিউ ভিশন ইকোসিটি এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা ব্যক্তিরা সারাদেশে চলমান পাখি শিকার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

পাখি পর্যবেক্ষণের মাঝে মাঝে ওই এলাকা থেকে আলোকচিত্রী ও স্থানীয়রা শিকারীদের পাতা কারেন্ট জালের ফাঁদে আটকা পড়া শতাধিক শালিক, খয়রা শিকরে প্যাঁচা, ফিঙ্গে, সবুজ সুইচোরা, কাঠ শালিক, গো শালিক, ভাত শালিক উদ্ধার করেন এবং পাখি ধরার ফাঁদ হিসেবে ব্যবহৃত এসব জাল পুড়িয়ে দেন। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ।
আয়োজকরা বলেন, সাদা কপাল হাঁসের মতো পরিযায়ী পাখি থেকে শুরু করে স্থানীয় নিশিবক–ধুপনি বক—কেউই শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।
সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নাটোর, চট্টগ্রামসহ দেশের সব অঞ্চলে পাখি শিকার মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

পরিবেশবিদরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জাতীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে না তুললে পরিবেশগতভাবে দুর্বল বাংলাদেশ আরও দ্রুত ধ্বংসের দিকে যাবে।
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের তারেক অনু বলেন, “বুনো পাখি শিকার করা মানে নিজের ক্ষতি করা। পৃথিবী থেকে পাখি বিলুপ্ত হলে মানুষও বিলুপ্ত হবে। শিকার বন্ধে এগিয়ে আসুন।”
বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, “নির্বিচারে পাখি ও প্রাণী হত্যা মানেই প্রকৃতি ধ্বংস করা। দেশীয় ও পরিযায়ী সব পাখিই আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ; এদের রক্ষা করা জরুরি।”
পরিবেশ বিষয়ক অলাভজনক সংগঠন ন্যাচার সেভার্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক আসকার রুশো বলেন, “প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে পাখি শিকার মহামারি আকার ধারণ করেছে। সবার সম্মিলিতভাবে কাজ না করলে শিকারীরা বাংলাদেশ থেকে পাখি শেষ করে দেবে।”