Published : 07 Apr 2026, 02:56 PM
জাতীয় সংসদে আটটি বিল পাসের কার্যক্রমের মধ্যে গুমের বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বাড়তি বক্তব্যে ‘আপত্তি ওঠে’ বিরোধী দলীয় নেতার কাছ থেকে; এক পর্যায়ে তাকে থামিয়ে দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস’ সংশোধন বিল পাসের প্রস্তাব তুলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “এটি এমন একটি বিল যে বিলের মধ্যে ক্রাইম এগেইন্স্ট হিউম্যানিটির ডেফিনেশন এর মধ্যে গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গুমের আইন নিয়ে. আমরা গুম চাচ্ছি না, গুমের বিচার চাচ্ছি না বলছেন তাদের জন্য বলছি এই আইনটা ভালো করে পড়ে দেখবেন।”
আইনমন্ত্রী বলেন, তারা আমরা গুমকে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংঞ্জায়িত করেছেন।
“গুমের ব্যাপারে আমরা যে বিচার করতে বদ্ধপরিকর সেইটারই একটি ডেমনস্ট্রেশন এই আইনের মধ্যে আমরা এনেছি।”
বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রী বক্তব্যকে ‘অনাহুত’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “এই অংশটা না বললেই ভালো হত। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করব।”
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে গুমের বিচার করার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে অনেকে ‘প্রশ্ন তোলার চেষ্টা’ করেছেন। সে কারণেই সরকার এ বিষয়ে ‘কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ তা তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন।
তখন স্পিকার তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “বাইরে কত লোক কত কথা বলে আপনি সংসদের আলোচনার মধ্যে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন।”
বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন জাতীয় সংসদের ‘এখন নাই’ মন্তব্য করে আইন-বিধি অনুযায়ী উত্থাপিত বিষয় নিয়েই আলোচনা করার কথা বলেন তিনি।
এরপর অন্য বিল পাসের কার্যক্রমে এগিয়ে যায় সংসদ।
দিনের শুরুতেই অবশ্য একটি বিল উত্থাপন আটকে যায়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন বিল, ২০২৬, রাষ্ট্রপতির সম্মতিপত্র সংসদ সচিবালয়ে না পৌঁছানোয় তা সেদিন উত্থাপিত হয়নি।
এ সময় চিফ হুইপ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, অর্থ-সম্পৃক্ত বিল হওয়ায় রাষ্ট্রপতির কনকারেন্স দরকার, সেটি পাঠানো হলেও এখনো সচিবালয়ে এসে পৌঁছেনি। স্পিকারও বলেন, এ ধরনের বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন, তা পৌঁছালে যথাসময়ে বিলটি উত্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার পাস হওয়া বিলগুলোর কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। ফলে বিলগুলোর ওপর আলাদা আলোচনা হয়নি; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপন, অবিলম্বে বিবেচনা এবং পাসের প্রস্তাব দিলে সেগুলো কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতেই এসব বিল আনা হয়। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল।
বাকি ২০টির মধ্যে চারটি রহিত করা এবং ১৬টি পরে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়। মঙ্গলবার পাস হওয়া বিলগুলোর বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল, সেগুলো হুবহু অনুমোদন করা হোক।
পাস হল যেসব বিল
এদিন পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল ২০২৬ সংসদে উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ, হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং হাওড় ও জলাভূমির পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষার কথা তুলে ধরে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬ এবং রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলগুলোও কণ্ঠভোটে পাস হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তাদের পক্ষে কয়েকটি বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধন বিল ২০২৬, শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা সংশোধন বিল ২০২৬ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট সংশোধন বিল ২০২৬ সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন বিল ২০২৬ উত্থাপন করা হলেও এদিন পাস হয়নি।