গত বছরের ১৪ অগাস্ট পদত্যাগ করেন তাকসিম এ খান।
Published : 08 Jan 2025, 09:52 PM
অবৈধ লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
বুধবার কমিশনের সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে জানান দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।
মামলায় ঢাকা ওয়াসার জনবল কাঠামোতে পরিচালক (উন্নয়ন) ও পরিচালক (কারিগর) কোনও পদ না থাকলেও সেই দুই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং এর মাধ্যমে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের এক কোটি ৯৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
এর আগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে মামলা দায়েরের সুপারিশ সম্বলিত অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হলেও সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ঢাকা ওয়াসায় যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তারা হলেন- পরিচালক (উন্নয়ন) মো. আবুল কাসেম ও পরিচালক (কারিগর) একেএম সহিদ উদ্দিন। ওয়াসার ২৫২তম বোর্ডসভায় তাদের নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বোর্ডসভার সভাপতি ছিলেন সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান।
আর বোর্ডের ৭ জন সদস্য ছিলেন এমডি তাকসিম এ খান, অতিরিক্ত সচিব (অবসর) সুধাংশু শেখর বিশ্বাস, এফসিএ ভাইস প্রেসিডেন্ট মু. মাহমুদ হোসেন, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রতিনিধি প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সভাপতি প্রকৌশলী একেএম হামিদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত আসন-১২ এর কাউন্সিলর আলেয়া সারোয়ার ডেইজী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাসিবুর রহমান মানিক। মামলায় তাদের সবাইকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, “বোর্ড সদস্যরা মূলত এ অবৈধ নিয়োগের পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন।”
দুজন পরিচালক অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে সুবিধাভোগী হিসেবে ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের অগাস্ট পর্যন্ত ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।
২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ পান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এরপর কয়েকধাপে মেয়াদ বাড়ে তার। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর্যন্ত ওই পদে বহাল ছিলেন তিনি।
গত ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকসিমের খোঁজ মিলছিল না।
সরকার পতনের পর ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ তাকসিম এ খানসহ কয়েকজন কর্মকর্তার ওয়াসা ভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। সে কারণে তারা ওয়াসা ভবনে যাচ্ছিলেন না। পরে গত বছরের ১৪ অগাস্ট তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র দেন।