Published : 28 Sep 2025, 12:13 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলোর অনেক কিছুই ‘এগিয়ে নেওয়া হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
সেই কাজের তালিকায় নয়টি আইন সংশোধনও করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিইসি।
নির্বাচন সামনে রেখে রোববার প্রথমবারের মত অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে বসেছে এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। সংলাপে শুভেচ্ছা বক্তব্যে কথা বলছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসি সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত রয়েছেন।
নাসির উদ্দিন বলেন, "আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক কাজ সম্পন্ন করেছি। তারমধ্যে বিশাল একটা ভোটার তালিকা তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শেষ করেছি। নারী ভোটার ব্যবধান কমিয়েছি। ৯টি আইন আমরা সংশোধন করছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা প্রস্তুতি নেওয়ার অনেক কিছু এগিয়ে নিয়েছি।"
সংস্কার কমিশনের আলোচনায় অনেক কিছু হয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, “আর যেটুকু গ্যাপ আছে তা আপনারা আজ পূরণ করে দেবেন।”
"আইটি সাপোর্ট পোস্টাল ব্যালট অনেক পরীক্ষা করার পরে আমরা তা হাতে নিয়েছি। ভোটে ১০ লক্ষ মানুষ কাজ করে। তারা ভোট দিতে পারেন না। আমরা এবার সবার ভোটের ব্যবস্থা করব। যারা হাজতে আছে তাদের ভোটের ব্যবস্থা করব।"

সিইসির কথায়, নির্বাচন কমশিন সুষ্ঠু সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
সংলাপে অংশীজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের পরামর্শ আমাদের পথ চলার সহায়ক হবে।"
সংলাপে আমন্ত্রিতদের মধ্যে ১২ জন আলোচনায় উপস্থিত হয়েছেন।
তারা হলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার রাশেদা কে চৌধুরী, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মাহমুদ হাসানউজ্জামান, সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মো. মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল ওয়াজেদ, বিজিএমইএ পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনি, কবি মোহন রায়হান, পুলিশ রিফর্ম কমিশনের মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি জারিফ রহমান, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, টিআইবি পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান।
অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব পক্ষের মতামত নিতে সংলাপের এ আয়োজন। এর অংশ হিসেবে বিকালে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বসবে ইসি।
আগামী নির্বাচনে প্রথমবারের মত ‘আইটি সাপোর্ডেট পোস্টাল ভোটিং’ হচ্ছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনি আইন বিধি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটের সার্বিক প্রস্তুতির মত বিষয় থাকবে আলোচনার টেবিলে।
রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটের দিনের অন্তত দুই মাস আগে তফসিল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, অংশীজনদের সঙ্গে এ সংলাপ এক থেকে দেড় মাস চলবে।
সংলাপে আমন্ত্রিতদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে- “অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সবার প্রত্যশা। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নে নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। ইসি সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বদ্ধপরিকর।
“সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন বিধি সময়ের সাথে সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং হচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনায় রয়েছে প্রশিক্ষিত জনবল। তারপরও জাতীয় নির্বাচনের মত বিশাল কর্মযজ্ঞ যথাযথভাবে সম্পাদনে দল, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, পযবেক্ষক, নারী নেত্রী, জুলাই যোদ্ধাসহ সবার মতামত, পরামর্শ সহযোগিতা প্রয়োজন।
“এমন পরিস্থিতিতে সবার সুচিন্তিত মতামত, পরামর্শ (প্রয়োজনে লিখিতভাবেও দেওয়া যাবে) নিতে এ মত বিনিময় সভা হচ্ছে।”
ইসির সংলাপ: প্রথম ধাপে আমন্ত্রিত শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা
রোডম্যাপ ঘোষণা: সংলাপ ও পোস্টাল ভোট নিয়ে যত পরিকল্পনা ইসির