Published : 28 Sep 2025, 08:22 PM
খাগড়াছড়িতে এক জুম্ম ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিচার দাবিতে ‘শান্তিপূর্ণ’ অবরোধ কর্মসূচিতে জুম্ম জনগণের ওপর ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা ও ঘরবাড়ি-দোকানপাট ভাঙচুরের’ প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আদিবাসী ছাত্র জনতা নামের একটি সংগঠন।
রোববার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের ‘নীরব ভূমিকারও’ সমালোচনা করা হয়।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈসানু মারমার সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা।
পার্বত্য জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, “আপনারা এত টালবাহানা না করে পাহাড়ের জন্য আইন করে দেন যে, যারা জাতে সেটেলার বাঙালি, ধর্মে মুসলিম তাদের জন্য ধর্ষণ বৈধ। আইন করে দেন পাহাড়ে ধর্ষণ হলে কোন প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করা যাবে না।
“শেখ হাসিনার বানিয়ে দিয়ে যাওয়া ন্যারেটিভ, পাহাড়িরা প্রতিবাদ করলেই সন্ত্রাসী, সেই ন্যারেটিভ প্র্যাকটিস করা বন্ধ করেন। ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যদি পাহাড়িদের অপরাধ হয়, তাহলে আমরা এরকম হাজারটা অপরাধ করতে রাজি।”
সাংবাদিক এহসান মাহমুদ বলেন,“ আদিবাসীদের প্রতিবাদের ভাষাকে দাবিয়ে রেখে রাষ্ট্র নিজেকে নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ করেছে। পাহাড়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বৈষম্য বিলোপের ব্যবস্থা না করে উল্টো বৈষম্য, নিপীড়নের চাকা অব্যাহত রেখেছে। আদিবাসীদের বিষয়ে রাষ্ট্র নির্বাক। ক্ষমতার মসনদে বসে আদিবাসীদের হাহাকার এই সরকার দেখতে পাচ্ছে না।”
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিকোলাস চাকমা বলেন, “ধর্ষকের বিচার চাইতে গিয়ে আমাদের আদিবাসী ভাইবোনদের নিপীড়নের শিকার হতে হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন জারি রেখে, ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে রাষ্ট্র আদিবাসীদের বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে এই রাষ্ট্রযন্ত্র নিপীড়নের মাধ্যমে আদিবাসীদের মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করে চলেছে।”
বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সহ সভাপতি টনি চিরান বলেন, “খাগড়াছড়িতে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা বুলেটে আদিবাসী ভাই বোনদেরকে গুলি করে রক্তাক্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যদি খাগড়াছড়িতে চলমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করে, তাহলে আদিবাসীদের মনে প্রতিবাদের যে আগুন জ্বলছে, তা বিস্ফোরিত হতে দেরি হবে না।”
হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়া চাকমা বলেন, “বছরের পর বছর রাষ্ট্র আমাদেরকে সন্ত্রাসী বানিয়ে রেখেছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় গুলি করেছে। এই রাষ্ট্রযন্ত্র আদিবাসীদের শান্তিপূর্ণ অবরোধে হামলার ইন্ধন যুগিয়েছে।”
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নুমংপ্রু মারমা, পিসিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শান্তিময় চাকমা বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন।